বুধবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ ইং, ভোর ৫:২৮
শিরোনাম :
করোনায় ২৬নং ওয়ার্ডের চার মৃত ব্যাক্তির স্বরনে মহানগর মুছলিহীন ক‌মি‌টির উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠিত ভোলায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১ ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন মাত্রায়’ ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে ‘শক্তিশালী জাওয়াদ’ শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া বাসচালকের সহকারী গ্রেফতার মাদ্রাসাছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড গরুকে বিয়ে করে ঘুমের জন্য নরম বালিশ-বিছানার ব্যবস্থাও করেছেন তিনি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর অনলাইন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বরিশাল বিভাগে প্রথম মোস্তফা দেশে ২২৭ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু দুই

বেসরকারি কলেজ প্রভাষকদের পদোন্নতি ও অসংগতি

লেখকঃ মোঃসাখাওয়াৎ হোসেন মল্লিক
প্রভাষক-সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
আতাহার উদ্দিন হাওলাদার ডিগ্রি কলেজ,বাকেরগঞ্জ,বরিশাল।
মোবাঃ01719-934266.

আমার একজন সহকর্মী, মূল্যায়ন ও পদোন্নতিরুপরেখা কমিটির একটি খসড়া, আমার আইডিতে প্রেরন করে বোঝাতে চাইলেন, বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদেরএমপিও নীতিমালা-২০২১ একটি বড় সুখবর। মনে পড়লো, দৈনিকশিক্ষায়- বিভিন্নসময়ে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগনের লেখাগুলোর কথা।এজন্যই হয়তোবা,আমা্র এ অভিপ্রায়- এমপিওভুক্ত প্রভাষকদের ইনক্রিমেন্ট নিয়ে হ য ব র ল।জুলাই-২১ মাসে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত প্রায় ৪০০ জন শিক্ষকের মাথায় হাত(প্রকাশিত-দৈনিক শিক্ষা ও দৈনিক সমকাল)।৮ম গ্রেডের চেয়ে, ৯ম গ্রেডের বেতন বেশি।এ কেমন উচ্চতর গ্রেড?

উল্লেখ্য ২০১০-এর এমপিও নী্তিমালায় একজন প্রভাষকের ৮ বছরপূর্ন হলে বেতন পেতেন ৭ম গ্রেডে অর্থাৎ-২৯০০০টাকা,কিন্তু ২০২১-এর নীতিমালায় ১০ বছর প্রে, একজন প্রভাষক বেতন পাবেন ৮ম গ্রেডে অর্থাৎ-২৬৬৩০টাকা।তা আবার ৯ম গ্রেডের চেয়ে ১৩০ টাকা কম। সকল প্রভাষকদে্র একই কথা- No need, our upper Grade.যতোই দিন যায়, ততোই শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্ছিত করা হচ্ছে।সংশোধিত এমপিও নীতিমালা -২০২১ বিগত ২৮ মার্চ প্রণয়ন করা হলেও প্রায় ৮ মাসেও শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি চুড়ান্ত করা হয়নি,যা মনে হচ্ছে গাছে কাঠাল গোফে তেল।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের এমপিও নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসেই ৫০% জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কার্যকর হয় এবং ০৩জন পদোন্নতি হয়। এ যেনো আজব শিক্ষা-ব্যবস্থা।

এম.পি.ও নীতিমালা ২০২১- এর ১১.৬ জ্যেষ্ঠ প্রভাষক/ সহকারি অধ্যাপক :-১।এম পি ও প্রাপ্তি থেকে জ্যেষ্ঠতা-১৫ নম্বর, নিঃসন্দেহে একটি ভালউ্দ্যোগ।৮বছর হলে ৮নম্বর, ৯বছর হলে ৯নম্বর, এভাবে ১৫বছর হলে ১৫নম্বর দেয়া হবে।তবে, একই সাথেএকটি প্রতিষ্ঠানের সবাইএমপিও ভূক্ত হলে এবং সকলের ১০ বছর পূর্ন হলে,জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হবেন কে? নম্বর বিভাজনবা মূল্যায়নহবে কিভাবে? শিক্ষক সমাজে এখন এটাই একটি বড় প্রশ্ন। একেকজন একেক রকমের ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করছেন এবং একে অপরকে, উচ্চস্বরে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।তাই এ বিষয়ে, স্পষ্ট ব্যাখ্যা একান্ত প্রয়োজন।এক্ষেত্রেআমি,একটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উদাহরন দিয়ে উক্ত আলোচনার সমাপ্তি টানবো।প্রতিষ্ঠানটির ১৮জন শিক্ষক একই সাথে নিয়োগ প্রাপ্ত হয় এবং একি সাথে অর্থাৎ-২০১০সালে, সকল শিক্ষক এমপিওভূক্ত হয়।

এমতাবস্থায়, ২০১০ ও ২০১৮-এর এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বয়সের দিকটি বিবেচনায় এনে৫:২ প্রথায় ৫জন শিক্ষক কোনো রকমের বিতর্কছাড়া্ই,সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়।

এখানে সিনিয়রের ক্ষেত্রে, নিয়োগ,যোগদান এবং জন্ম তারিখ বাবয়সের দিকটি স্পষ্ট ছিলো বিধায় অতি সহজে সমাধান সম্ভব হয়েছিল।তাই পদোন্নতি ও মূল্যায়ন কমিটিযেনো, কোন রকমের বিতর্ক বা অস্পষ্টতা ছাড়াই সহজে জেষ্ঠ্য শিক্ষক নির্বাচিত করতে পারেন,সেটাই শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা। ২।একাডেমিক পরীক্ষার ফলাফল-১৫ নম্বরঃএকাডেমিক পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে, ৩ বছর মেয়াদী অনার্স ও ৪ বছর মেয়াদী অনার্সের মধ্যে নম্বরের পার্থক্য করাহলে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ, চরম বৈষম্যের স্বীকার হবেন। আসলে এ্ দায় কার, একজন শিক্ষকের? নাকি, এজন্য তৎকালীন শিক্ষা কারিকুলাম দায়ী?৩।ক্লাশে মোট উপস্থিতি-২০ নম্বরঃকতদিন? কতমাস? কত বছর উপস্থিতি ধরে নম্বর দেয়া হবে? নাকি এমপিওভূক্তি থেকে হিসাব ধরা হবে? এ বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।

তবে এ কথা সত্যি, এই সূচকটি সংযোজন করায় ইতিমধ্যে শিক্ষকের ফাঁকি দেয়ার প্রবনতা শুন্যর (০) কোটায় চলে এসছে।অনুরুপভাবে,অনুকরনীয় ও সৃজনশীল-১০ নম্বরঃসৃজনশীল কাজের মধ্যে বিশেষ করে, রোভার/গার্লস গাইড একটি গুরুত্বপূর্ন ও ভাল কাজ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, উক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমানে সহায়ক চাঁদা অর্থাৎ-আর্থিক বিষয়টি জরিত।রোভার/গার্লস গাইড-নেতা আর্থিক বা অন্য কোন অনিয়ম করলে, তাকে উক্ত নম্বর কিভাবে দেয়া হবে?,যেহেতু এখানে নম্বরের বিষয় জরিত, তাহলে এ কাজটি কি সকল প্রভাষক করবেন, নাকি শরীরচর্চা শিক্ষককরবেন?বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, এ মহান দায়িত্বটি পালনের মধ্য দিয়ে প্রায় সকল প্রভাষক, নম্বর প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন।

বিশেষ কেউ বা কোনো একজন প্রভাষক দায়িত্ব পালন করলে, অন্য প্রভাষকগন উক্ত নম্বর প্রাপ্তিতে যথেষ্ট বৈষম্যেরশিকার হবেন। তবে প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষকের ইতিবাচক কাজের জন্য মূল্যায়ন সূচক যুক্ত করা আবশ্যক তবে পদোন্নতি ও মূল্যায়নের জন্য উল্লেখিত ০৯টি সূচকই অত্যন্ত গবেষণালব্দ এবং সময়োপযোগী বলে শিক্ষকমহলের অভিমত।

পরিশেষে,প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত যেমন-গভর্ণিং বডি,অধ্যক্ষ,শিক্ষক প্রতিনিধি এবং থানা নির্বাহি কর্মকর্তা এদের সমন্বয়ে একটি সহজ মূল্যায়ন কমিটি প্রনয়ন এবং অতি দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহন একান্ত প্রয়োজন।