রবিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ ইং, রাত ৪:২২

কমিউনিটি পুলিশিং

লেখক  মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর)
বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ
বরিশাল।

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে তাল রেখে সমান তালে মানব সমাজে অপরাধের পরিধি ও ধরন বেড়ে চলছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরকে তাই প্রতিনিয়ত কাজ করতে হচ্ছে নানান কৌশল, পদ্ধতি ও প্রযুক্তি অবলম্বন করে। নাগরিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে সার্বক্ষনিক কাজ করে চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন, গনতন্ত্র রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী যে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে তা সমাজের সাধারন মানুষসহ দেশী ও আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে জনগনকে সম্পৃক্ত করা এবং বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ বসবাস উপযোগী দেশ গড়তে কমিউনিটি পুলিশিং এর কোনো বিকল্প নেই। মর্ডান পুলিশিং এর মূল কথাই হলো ‘কমিউনিটি পুলিশিং’।

কমিউনিটি পুলিশিং বাংলাদেশের পুলিশিং ব্যবস্থার একটি মাইলফলক। কমিউনিটি পুলিশিং সম্প্রদায় নির্ভর অপরাধ প্রতিরোধ, সমস্যার সমাধানমূলক, অংশীদারিত্বমূলক, গণমূখী, প্রতিরোধমূলক, দর্শন ভিত্তিক, সংগঠনমূলক, আলোচনাভিত্তিক, খাপ খাওয়ানো পুলিশি ব্যবস্থা যা সাধারন জনগনকে সম্পৃক্ত করে জনগনের মতামত ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে কমিউনিটি ভিত্তিক পুলিশিং যা পুলিশি কার্যক্রমে কমিউনিটির সমর্থন নিয়ে নানান সমস্যার সমাধান করে। “থানার পাশে কানাও হাটে না”- এই কথাকে মিথ্যা প্রমানিত করেই সম্প্রদায়ের কল্যানে কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং পুলিশ ও জনগনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নানান কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে জনগনকে পুলিশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাতে সক্ষম হয়।

যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশ এখনও সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। তবে কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন, অপরাধ নিয়ন্ত্রন এবং অপরাধ প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আমাদের দেশে জনগনের তুলনায় পুলিশ অনেক কম হওয়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যাপক সাড়া জাগানো ও ফলপ্রসু পুলিশিং ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে অচিরেই।

কমিউনিটিঃ

কোন ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে সাধারণ অর্থে কমিউনিটি বলে। বৃহৎ অর্থে কোন বিধিবদ্ধ সংস্থা, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও কমিউনিটির অর্ন্তভূক্ত। উইকিপিডিয়া এর সজ্ঞায় কমিউনিটিকে কে এভাবে সজ্ঞায়িত করা হয়েছে:- শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সাওয়ালা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, যে কোন পেশার লোক, বেকার যুবক এবং সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষই কমিউনিটির অর্ন্তভূক্ত।

কমিউনিটি পুলিশিংঃ

সাধারণ অর্থে কমিউনিটি পুলিশিং অর্থ কমিউনিটি কর্তৃক পরিচালিত পুলিশি ব্যবস্থা। বিস্তৃত অর্থে কোন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় অপরাধ দমন ও অপরাধ উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশ ও ঐ এলাকার জনগনের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমস্যা ও সমস্যার কারন চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপায় উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিই কমিউনিটি পুলিশিং।

কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল কথা হলো কমিউনিটির সদস্য অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা। যেখানে প্রয়োজনে সাধারন মানুষ পুলিশের ভূমিকায় আবর্তীন হয়। এটি একটি ফলদায়ক বৃক্ষের মত। এর মাধ্যমে বহুমাত্রিক সহযোগিতা পাচ্ছে পুলিশ। এটি একটি কার্যকরী কৌশল যা অপরাধ নিয়ন্ত্রন, পুলিশী ভীতি হ্রাস, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, উন্নত পুলিশি সেবা এবং বৈধতা প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রদায়ের মধ্যে সক্রিয়ভাবে নির্ভরশীলতার মাধ্যমে সমাজকে অপরাধ মুক্ত করে। ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ একটি সংগঠনভিত্তিক দর্শন ও ব্যবস্থাপনা যা জনগনকে সম্পৃক্ত করে জনগন, সরকার ও পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও সমস্যার সমাধানকল্পে অপরাধের কারন দূর করে, মানুষের মধ্যে অপরাধভীতি হ্রাস করে নিরাপত্তা বিধান করে ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান দেয়। অথ্যাৎ জনগনকে পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত করাই হল কমিউনিটি পুলিশিং।

১৯৬০ এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন চলাকালীন প্রথাগত পুলিশি মডেলের দুর্বলতা প্রকাশের পর ধীরে ধীরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বিবর্তন শুরু হয়। নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন এর প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান শুরু হয়। এই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যমান রয়েছে।


কমিউনিটি পুলিশিং এর ইতিহাসঃ

কমিউনিটি পুলিশিং সামাজে জাদুর মতো আসেনি। এর বিবর্তনের শতাব্দীর ইতিহাস আছে। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’- এই শ্লোগানের প্রতিষ্ঠাতা যিনি এবং যার নিরলস প্রচেষ্ঠায় এই শ্লোগানটি সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে তিনি হলেন লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট পিল। তিনিই সর্বপ্রথম কমিউনিটি পুলিশিং এর সূত্রপাত করেন। স্যার রবার্ট পিল কয়েকটি নীতমালা প্রনয়ন করেন, যার মধ্যে একটি সম্প্রদায়ের পুলিশি বীজের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

আধুনিক পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা, রবার্ট পিল ১৮২৯ সালে নতুন পুলিশের ভূমিকা দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় হতে আস্তে আস্তে কমিউনিটি পুলিশিং এর বিবর্তন শুরু হয়। ষাটের দশকের নাগরিক অধিকার আন্দেলন, ১৯৭০ এর দশকের একাডেমিক আগ্রহ, একটি সহজাত সম্প্রদায়ের পুলিশিং পদ্ধতির সূচনা,১৯৮০, “ব্রোকেন উইন্ডোজ” প্রবন্ধের প্রকাশ ১৯৮২, জাতীয় সংস্কার আন্দোলন ১৯৯০ এবং এর পরে। হারম্যান গোল্ডস্টেইন এর সমস্যা ভিত্তিক পুলিশিং এর ধারনা বিভিন্ন পর্যায়, যুগ ধারনা, স্তর পার হয়ে কমিউনিটি পুলিশিং আজ বর্তমানের এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

রবার্ট পিল নিম্নলিখিত নীতিগুলো তুলে ধরেছেন যার উপর ভিত্তি করে পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবেঃ

 পুলিশের কর্তব্য হচ্ছে অপরাধ এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।
 পুলিশের দায়িত্ব পরিপালনের ক্ষমতা জনগনের অনুমোদন এবং জনগনের অধিকার সুরক্ষিত ও বজায় রাখার উপর নির্ভরশীল।
 জনগনের সম্মান এবং অনুমোদনের অর্থ জনগন কর্তৃক স্বেচ্ছায় সহযোগিতা।
 আইন ও জনগনের প্রতি নিরপেক্ষ সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে পুলিশের জনগনের অনুগ্রহ প্রত্যাশা ও সংরক্ষন করা উচিৎ।
 জনসাধারণের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের এমন চেষ্টা করা উচিৎ যাতে পুলিশ জনসাধারণকে এবং জনগন পুলিশ কে বিশ্বাস করে।
 পুলিশের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ পুলিশের দৃশ্যমানতায় নয় বরং অপরাধ ও বিশৃংখলার অনুপস্থিতিতে তাহা বিদ্যমান।
রবার্ট পিলের নীতিমালার আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, নাগরিক জীবনে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইন শৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ-এ কমিউনিটি পুলিশিং এর কোন বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ঃ

বাংলাদেশ পুলিশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য আছে। বাংলাদেশের সভ্যতা পাশ্চাত্যের তুলনায় পুরনো। যীশুখ্রিষ্টের জন্মের পূর্বে মহাস্থানগড়ে ব্রাহ্মলিপি পাওয়া যায়। কৌটিল্যের আর্থশাস্ত্রে সরকারী বিরোধী কর্মকান্ড রোধে ও সমাজে আইন শৃংখলা বজায় রাখার জন্য গোয়েন্দা সংগ্রহের প্রচষ্ঠার মধ্যে পুলিশিং কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল। বাংলাদেশ পুলিশ প্রাথমিক ভাবে সম্প্রদায়ের সেবা রেখে জনসাধারনের নিয়ন্ত্রনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকত। কিন্তু সময়ের সাথে, সমাজ ব্যবস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পুলিশিং-এ আসে কমিউনিটি পুলিশিং এর আগমন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও চালু হয় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা। তবে তা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল ছিল। বাংলাদেশে পুলিশ রির্ফম প্রজেক্ট (পিআরপি) এর আওতায় ২০০৫ সালে পুলিশি দক্ষতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। যাতে করে দেশের নাগরিক ও দর্শনার্থীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও নিরাপদ করে তোলা যায়। এই প্রোগ্রাম বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ প্রতিরোধ বিভাগের জন্য তৈরী করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন ধারনা। কেবল পুলিশ নয় , এনজিও এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠনগুলো দ্বারা কমিউনিটি পর্যায়ের সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ ও জনগনকে একত্রিত করার উপায় হিসাবে কমিউনিটি পুলিশিংকে অনুসরন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথম ১৯৯৩ সালে ময়মনসিংহ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কমিউনিটি পুলিশিং চালু করা হয়। ময়মনসিংহের তৎকালীন পুলিশ সুপার এটি আহামেদুল হক চৌধুরী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহীদুল হক (বর্তমান আইজিপি) গঠন করেন টাউন ডিফেন্স পার্টি যা পরে কমিউনিটি পুলিশিং এ রূপ লাভ করে। ১৯৯৪ সালে ঢাকা মহানগরীর কাফরুল ও ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের আওতায় আসে এবং ২০০০ সালে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশে। পরবর্তী কালে ২০০৫ সালে পুলিশ রিফর্ম প্রজেক্ট এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়।২০০৭ সালের মাঝামাঝি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশ ফোরাম (সিপিএফ) গঠন করে সর্বপ্রথম রাজশাহী রেঞ্জে সমগ্র বিভাগ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক ঘোষনা দেন, এখন থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ শনিবারে সারা বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং দিবস পালন করা হবে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি থানায় থানায় কমিউনিটি পুলিশিং এর কমিটি গঠন করার উপর জোর দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ৪০,৯০৮ টি কমিটিতে ৯৫,০০৪ জন সদস্য রয়েছে।


কমিউনিটি পুলিশিং এর আইনগত ভিত্তিঃ

কোন অধ্যাদেশ বা আইনের মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশের উদ্ভাবন না হলেও প্রচলিত আইনে স্থানীয়ভাবে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনায় কোন বাধা নেই। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২,৪৩,৪৪ ও ৪৫ ধারা মোতাবেক জনসাধারণের কতিপয় ক্ষেত্রে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা আছে।

ধারা-৪২ঃ জনসাধান কতৃক ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে সাহায্য দান: যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মচারী ন্যায়সঙ্গতভাবে জনসাধারণের সাহায্য চাইবেন তখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিন্মলিখিত ক্ষেত্রে সাহায্য করিতে বাধ্য।

ক) যে ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ গ্রেফতার করিতে পারেন তাহাদের গ্রেফতার করিতে বা পলায়ন রোধ করিতে।
খ) শান্তিভঙ্গ রোধে বা দমনে অথবা কোন রেলপথ, খাল,টেলিগ্রাফ অথবা জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিরোধ করিতে।
দ্রষ্টব্যঃ ন্যায়সঙ্গত সাহায্য বলিতে সাহায্য করিতে যাহারা সক্ষম অথবা শারীরিক মানসিক দিক দিয়ে সাহায্য করিতে কোন অসুবিধা না হয় তাহাদের নিকট হইতে সাহায্য দাবী করা বুঝাইবে। স্ত্রীলোক, বালক-বলিকা, বৃদ্ধ বা অসুস্থ লোকের সাহায্য দাবী করা চলিবে না। যদি সক্ষম ব্যাক্তি সাহায্য না করে তবে সে দন্ডবিধির ১৮৭ ধারা অনুযায়ী দন্ডনীয় হইবে।

ধারা-৪৩ঃ পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তি পরোয়ানা কার্যকরী করিতেছে তাহাকে সাহায্য দানঃ পুলিশ অফিসার ব্যাতীত অন্য কাহারও প্রতি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হইলে এবং তিনি নিকটে থাকিয়া উক্ত পরোয়ানা কার্যকরী করিলে অপর কোন ব্যক্তি তাহাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করিতে পারিবেন।

ধারা-৪৪ঃ জনসাধারণ কতিপয় অপরাধ সম্পর্কে সংবাদ দিবেন: প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি নিম্নলিখিত অপরাধগুলির কোন একটি অপরাধ হইয়াছে অথবা কেহ উক্ত অপরাধ করিবার সংকল্প করিয়াছে বলিয়া জানিবেন, তিনি ন্যায়সঙ্গত কারন বাতীত যাহা প্রমানের ভার তাহার উপর পড়িবে, অতিসত্বর নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসারকে সংবাদ দিতে বাধ্য থাকিবে।

অপরাধের তালিকাঃ দন্ডবিধির ১২১, ১২১(ক), ১২৩, ১২৪, ১২৪(ক), ১২৫, ১২৬, ১৩০, ১৪৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৭, ১৪৮, ৩০২, ৩০৩, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০,৪৫৬, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ ও ৪৬০ ধারা অনুসারে শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ।

ধারা-৪৫ঃ গ্রাম প্রধান, হিসাব রক্ষক, জমির মালিক এবং অপরাপর ব্যক্তিগন কতিপয় বিষয়ে সংবাদ দিতে বাধ্য: প্রত্যেক গ্রাম প্রধান, গ্রাম্য পুলিশ (চৌকিদার) জমির মালিক বা দখলকার অথবা দখলকারী বা জমির মালিকের গোমস্তা অথবা জমির রাজস্ব আদায়কারী সরকারী কর্মচারী (তহশিলদার) যদি নিন্মবর্ণিত বিষয়সমূহ অবহিত থাকেন, তবে তিনি নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার যিনি নিকটতর তাহাকে অবিলম্বে সংবাদ দিবেন।

ক) যে গ্রামে তাহারা বাস করেন সেখানে কোন কুখ্যাত চোরাইমাল ক্রেতা বা বিক্রেতাকে স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করিতে দেখিলে,
খ) কোন ব্যক্তি যাহাকে ঠগ, দস্যু, পলাতক আসামী বা ফেরারী আসামী বলিয়া জানেন বা গ্রামের মধ্য দিয়ে চলাচল করিতে দেখেন,
গ) উক্ত গ্রামে বা উহার সন্নিকটে কেহ জামিনের অযোগ্য অপরাধ করে বা দন্ডবিধি ১৪৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৭ অথবা ১৪৮ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধ সংঘটন করে বা করার সংকল্প করে,
ঘ) উক্ত গ্রাম বা তাদের সন্নিকটে কোন আকস্মিক অথবা অস্বাভাবিক মৃত্যু বা সন্দেহজনক মৃত্যু ঘটিলে কিংবা সেখানে কোন মৃতদেহ বা তাহার অঙ্গ প্রতঙ্গ পাওয়া যায় বা কোন লোক নিখোঁজ হয়,
ঙ) শৃঙখলা রক্ষা অথবা অপরাধ নিবারন অথবা ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা ব্যাহত করিতে পারে এরূপ কোন বিষয়,

দ্রষ্টব্যঃ এই নির্দেশনা লংঘন করিলে দন্ডবিধির ১৭৬ ধারা অনুযায়ী সাজা হয়।

পিআরবি’র প্রবিধান ৩২ বিধি মোতাবেক পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন পরিষদের সহিত সহযোগিতাঃ-

ক) গ্রাম পুলিশের নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সহিত সহযোগিতা ব্যাতিরেকে পুলিশ প্রশাসনের কাজে সাফল্য হাসিল করা যাইতে পারে না। অতএব সকল পুলিশ অফিসারগন উহাদের প্রতি যথাযথ ভদ্রতা ও সম্মান প্রদর্শন করিবেন।
খ) থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারগন স্ব স্ব এলাকায় পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সহিত ভালোভাবে পরিচিত হইবেন এবং অপরাধ দমন ও অপরাধীদের খুঁজিয়া বাহির করা সংক্রান্ত সকল ব্যাপারে তাঁহাদের সহযোগিতা কামনা করিবেন।
গ) উচ্চতর পদমর্যাদার অফিসারগন সফরকালে পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মতামত গ্রহন এবং তাহাদের সহিত পুলিশের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সহযোগিতা সভার আয়োজন করিবেন।

কমিউনিটি পুলিশ হল পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনগনের একটি সংগঠিত শক্তি। কাজেই প্রচলিত আইনেই কমিউনিটি পুলিশের সমর্থন আছে। আমাদের দেশে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও গ্রামের গণ্যমান্য ও মাতব্বর কর্তৃক শালিসীর মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা প্রকারান্তে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থারই জনস্বীকৃত নিদর্শন।

কমিউনিটি পুলিশিং এর অঞ্চল ভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটির দুটি অংশ:

(১) উপদেষ্টা কমিটি-সদস্য সংখ্যা ৮/১০ জন।
(২) নির্বাহী কমিটি-২০/২৫ জন।
কমিউনিটি পুলিশিং কমটিরি রূপরেখা নিন্মরূপ:

১) সভাপতি (১জন), ৬) প্রচার সম্পাদক (১জন)
২) সহ সভাপতি (একাধিক), ৭) ক্যাশিয়ার (১জন),
৩) সাধারণ সম্পাদক (১জন), ৮) মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (মহিলা ১জন),
৪)যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (১জন), ৯) সাধারন সদস্য (পুরুষ ৬ জন),
৫) দপ্তর সম্পাদক (১জন), ১০) সাধারন সদস্য (মহিলা ৩ জন)।

উল্লেখ্য কমিটির মেয়াদ ১ (এক) বছর।

কমিউনিটি পুলিশিং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

 পুলিশ এবং জনগনের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
 পুলিশি কার্যক্রমে জনগনকে সম্পৃক্ত করে গনমূখী পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
 জনগনের প্রত্যাশা ও মতামতের সার্থক প্রতিফলন ঘটানো।
 পুলিশের কাজে জনগনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।
 দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
 জনগনের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা।
 কর্তব্য পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা জনগনকে জানানো।
 জনগনকে ক্ষমতায়ন করা।
 জনগনের মধ্যে পুলিশী ভীতি হ্রাস করা।
 পুলিশের সনাতনী মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো।
 জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা এই নীতি প্রতিষ্ঠা করা।

কমিউনিটি পুলিশং এর কার্যাবলীঃ-

 অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে গনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
 প্রকাশ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করা।
 ডাকাতি, চুরি, দস্যুতা, গরু চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা।
 অপরাধীদের সম্পর্কে পুলিশকে গোপন সংবাদ দান।
 মাদক ব্যাবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
 চোরাচালান, খাদ্যে ভেজাল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।
 কিশোর অপরাধ, বখাটের উৎপাত, মেয়েদের উত্যক্ত বন্ধ করার জন্য কর্মসূচি গ্রহন।
 যৌন অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কর্মসূচি গ্রহন।
 ছোট খাট অধর্তব্য অপরাধ মিমাংশা করে থানায় খবর দেয়া।
 নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, শিশুশ্রম ও নারী পাচার বন্ধে জনমত তৈরী।
 ধর্মীয় গোঁড়ামী, ফতোয়া, হিল্লা বিবাহ বন্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করা।
 সমাজে কোন সমস্যা যা জনগনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সে সকল সমস্যা পুলিশকে অবহিত করা।
 সকল প্রকার সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে এমন কর্মসূচি গ্রহন করা।
 প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ানো এবং সেবা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহন।
 এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধি পেলে কমিউনিটির অর্থায়নে প্রহরী নিয়োগ করা।
 দরিদ্র লোকদের মামলায় আইনী সহায়তা প্রদান।
 গনমাধ্যমের সাথে পুলিশের সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহন।
 রাস্তায় যানযট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহন।
 মিথ্যা মামলা এবং নিরীহ লোককে হয়রানি বন্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন ।
 বিবিধ কর্মসূচি গ্রহন যা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি জনস্বার্থ বলে বিবেচনা করবে।

কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রতিবন্ধকতা সমূহঃ

 পুলিশ সদস্যদের সনাতনী সনাতনী মনমানসিকতা।
 কমিউনিটি পুলিশিং সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারনার অভাব।
 জনগনের অধিকার ও কর্তব্য সমন্ধে অজ্ঞতা।
 পুলিশের উপর জনগনের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা।
 পুলিশ বিদ্বেষী মনোভাবের কারন।
 জনগনকে কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে ধারনা দিতে পুলিশ সদস্যদের অবহেলা।
 কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারী অর্থ বরাদ্দের অভাব।
 কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টি রুটিন ডিউটিতে নেই।
 পুলিশের প্রতি জনগনের আস্থা কম ও সন্দেহ কাজ করা।
 জনগনের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রবনতা।

গন সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং:

 বিভিন্ন ধরনের কর্মশালার আয়োজন করে।
 দূর্নীতি ও অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়ে।
 নারী নির্যাতনকারী ও যৌতুক লোভীদের পুলিশে সোপর্দ করে।
 টিকাদান কর্মসূচীর আয়োজন করে।
 বিভিন্ন দিবসগুলোতে সভা-সেমিনার করে।
 জনগনকে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করে।
 এইচআইভি/এইডসসহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জনগনকে অভিহিত করে।
 জনগনের সুপ্ত বিবেককে জাগ্রত করে।
 বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও লিফলেট বিতরন করে।

কমিউনিটি পুলিশিং এর সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনঃ

 জনগনের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং এর ধারনা ছড়িয়ে দেয়া।
 সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় লোকদের সাহায্যে কমিটি গঠন এবং জনগনকে কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারনা দিতে হবে।
 জনগনকে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর স্পষ্ট জ্ঞান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করতে হবে।

 কতা পরিবর্তন করে গনমূখী ও আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হতে হবে।
 কমিউনিটি পুলিশিংকমিটির সদস্যদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিতে হবে।

 সকল পেশা ও শ্রেনীর লোকদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করতে হবে।
 কমিটির স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা করতে হবে।

কমিউনিটি পুলিশিং এর সুফলঃ

 পুলিশ এবং জনগনের যৌথ প্রচেষ্টায় অপরাধ দমন ও এলাকার সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি।
 জনগনের সহায়তায় পুলিশ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা জানতে পারে।
 পুলিশ এবং জনগনের পারস্পারিক আস্থা বৃদ্ধি পায়।
 পুলিশ ও জনগনের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পায়। জনগন পুলিশকে আপন ভাবতে শিখে।
 জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি হ্রাস পায়।
 এলাকায় পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসাবে একটি গন ফোরাম তৈরী হয় যাতে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পায়।
 পুলিশের উপর চাপ অনেক কমে যায়।
 পুলিশী সেবা নিশ্চিত হয়।
 জনগনের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
 পুলিশ এবং জনগনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।
 সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
 জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়।

উপসংহারঃ

বর্তমান সময়ে যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে আইনের শাসনের সুফল জনগনের নিকট পৌছে দিতে কমিউনিটি পুলিশিং এর কোন বিকল্প নেই। জনগন থেকেই কমিউনিটি পুলিশিং গঠিত হওয়ায় এর গ্রহনযোগ্যতা ও বিশ্বসযোগ্যতা অনেক। গনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও এর সফল বাস্তবায়নে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ পুলিশের সেবাভোগী গোষ্ঠী। পুলিশের সেবা জনগন কিভাবে নিচ্ছে এবং জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ সেবা দিতে পারছে কি না তা জানার জন্য পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন ও সম্প্রীতি স্থাপন অপরিহার্য।

জনগণ সকল কাজেই পুলিশের উপস্থিতি ও সহায়তা চায়। এমতাবস্থায়, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করতে হলে পুলিশের মন-মানসিকতা, আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডে গ্রহনযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে এবং জনগনকে পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত করে জনগণের প্রত্যাশা, মতামত ও চাহিদার ভিত্তিতে জনগণের সহায়তায় পুলিশি কার্যক্রম চালাতে হবে।

পুলিশকে হতে হবে গণমূখী, সেবাধর্মী ও পেশাদার এবং একইসাথে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতার সেতুবন্ধন তৈরী করতে হবে যার সুফল জনগন ও পুলিশ উভয়েই পাবে। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে পুলিশের কাছে জনগনের এটাই প্রত্যাশা ।