ডেক্সরিপোর্ট র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ব্যাতিক্রম মাদক বিরোধী অভিযান ১০ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে র্যাব‘র মহাপরিচালক ড. বেনজির আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেছেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে এক লাখ কোটি টাকা মাদকের পিছনে ব্যয় হয়। এই অর্থ যদি দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হতো তা হলে বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক রোধ, জঙ্গীবাদ দমন এবং দুর্নীতি দমনে বদ্ধ পরিকর। তার নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমাজের নানা অপরাধ কমাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে আইন শৃঙ্খলা দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়, যতদিন এদেশের মানুষের কাছে মাদকের ডিমান্ড থাকবে ততদিন কোন না কোন ভাবে মাদকের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরে (২৪ ডিসেম্বর) প্রথমে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতার উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যান সমিতির সভানেত্রী মিসেস জীশন মির্জা পুরস্কার প্রদান করেন।দৌড় প্রতিযোগীতায় অন্তত ১১শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন কালে তিনি আরো বলেন-পরিবারের কোন সদস্য যদি মাদকাসাক্ত হয় তা হলে তাকে বর্জন না করে তার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ন আচরন করুন। তাকে মাদকের নেতিবাচক দিক গুলো তুলে ধরে সাংস্কৃতিক মূখি করুন। দেখবেন তিনি স্বেচ্ছায় মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে বেড় হতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরো বলেন-দেশে একাধিক সীমান্ত থেকে মানুষও যেমন যাতায়াত করে তেমনি তার সাথে মাদক পাচার হয়। তাই বলে সীমান্ত বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই জন্য আমাদের দেশের মানুষের আরো সচেতন হতে হবে। দেশ থেকে মাদক নামক নিরব সন্ত্রাস দুর করতে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করতে হবে। কক্সবাজারসহ সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ দেশে মাদক সন্ত্রাস তৈরী করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের যুব সমাজ ক্রমশই ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে গোটা দেশকে ভাবিয়ে তুলেছে।
র্যাবের বিশেষ বেশ কয়েকটি অভিযানে অন্তত কয়েকজনকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বেশ কয়েক অপরাধীও র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তবে মাদকের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ভাবে জড়িত থাকলে দেশ থেকে মাদক রোধ কার্যক্রম মহা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাড়াবে। তাই সাধারন মানুষের পাশাপাশি আমাদেও সদস্যরা মাদককে না বলতে হবে। তা না হলে আমার সন্ত্রান অথবা সতুন প্রজন্মকে আমরা কি উপহার দিবো। কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি মাদকের সাথে যুক্ত হয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করুক। দেশে মাদকের এই অভিযান চলমান থাকবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন র্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, সদর দপ্তরের পরিচালক উইং লেঃ কর্নেল শফী উল্লাহ বুলবুল, পরিচালক এয়ার উইং লেঃ কর্নেল মোঃ আসাদুল আলম, র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং পরিচালক মাহাবুব আলম, লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং মোঃ সারওয়ার-বিন কাশেম, বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম, র্যাব-৮ বরিশাল‘র অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আনিকা ইসলাম,বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজ একেএম এহসান উল্লাহ, বরিশাল রেঞ্জ এর পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী ও পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহম্মদ মইনুল হাসান, পটুয়াখালী অতিরিক্ত এসপি মাহফুজুর রহমান,পটুয়াখালী র্যাব-৮‘র কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র এসএপি সোয়েব আহম্দে খান এবং র্যাব-৮‘র অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।