ডেক্সরিপোর্ট বরিশালের সদর উপজেলায় প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পাশ্ববর্তী আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মেঘিয়া এলাকার মৃত মোশারেফ হোসেন তালুকদারের ছেলে জাকির হোসেন তালুকদার, সফিউদ্দিন সিকদারের ছেলে হাবিবুর রহমান সিকদার, মৃত রজ্জব আলী খানের ছেলে নুরুল ইসলাম খান ও মৃত কদম আলী মোল্লার ছেলে সেকান্দর আলী মোল্লা বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া এলাকার আবদুল গনি মৃধা ও মন্টু মৃধার জমি থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। বালু উত্তোলন এলাকার পাশ্ববর্তী আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকার ঘনবসতিপূর্ন ইসমাইল মল্লিকের বাড়ির একাধিক গৃহবধূ, ইসমাইল মল্লিক, মৃত আবদুল মজিদ মৌলভীর ছেলে নুরুল হক ও মৃত আবদুল কাদের তালুকদারের ছেলে আবদুল মালেক তালুকদার বলেন, নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন মীর, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন লিটন মোল্লাকে জানিয়েছি। আমাদের বসতভিটা, ফসলী জমি নষ্ট হয়ে যাবে। বালু উত্তোলনের জন্য নিষিদ্ধ ড্রেজার স্থাপনকারী হাবিবুর রহমান সিকদার বলেন, এ ড্রেজার কাশীপুর চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার, এতে কার কি করার আছে। তার বেশ কয়েকটি সাইড চালিয়েছি।
কিন্তু বাস্তবে খোজ নিয়ে জানা যায়, কাশীপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন লিটন মোল্লা নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন কোনভাবেই সমর্থন করেন না, বরং তিনি বালি উত্তোলনকারীদের বারন করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুসারে সড়ক, আবাসিক এলাকা, ফসলী জমির সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে পাম্প বা ড্রেজার বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালি বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। তারপরেও কোন কিছু তোয়াক্কা না করে বালি উত্তোলন করছে। স্থানীয় বসতভিটা, ফসলী জমি বাচাতে বালি উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা উচিৎ।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মসূচীতে অংশ নেয়া জলবায়ু যোদ্ধাখ্যাত সাংবাদিক প্রিন্স তালুকদার বলেন, নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে ফসলী জমি, জনজীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যয়ের আশংকার সৃষ্টি হচ্ছে। আমি বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি, আশা করি তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায় নাই।