ডেস্করিপোর্ট দিনভর ঢাকামুখী মানুষের ভোগান্তির পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় লঞ্চ চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে সরকারি এ ঘোষণা আসলেও বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকামুখী কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।
শনিবার রাত ৮টার দিকে বরিশাল নদী বন্দরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকাগামী যাত্রীরা জড়ো হয়েছে সেখানে। কিন্তু যাত্রী কমসহ নানান অজুহাতে লঞ্চ মালিকরা লঞ্চ বন্ধ রেখেছে।
বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যাত্রী আসলে লঞ্চ ছাড়বে। সেটা রাত ১২টা হোক আর ১টা হোক। রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচলের অনুমতি আছে। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন সরকার যখন এই ঘোষণা দিয়েছে তখন বরিশাল নদী বন্দর যাত্রী শূন্য।
একাধিক লঞ্চের মালিক জানান, লঞ্চের অনেক শ্রমিক-কর্মচারীও বাড়ি গেছেন। লকডাউনে তারা এতো স্বল্প সময়ের সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। সরকারি ঘোষণাটা বিকেলে হলেও মাইকিং করে দেওয়া যেত। তাহলে কিছু যাত্রী পাওয়া যেত।
সুরভী লঞ্চের পরিচালক রিয়াজ উল কবির সাংবাদিকদের জানান, লঞ্চ ছাড়ার সিদ্ধান্ত হলেও তাদের পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।
তিনি জানান, একটি লঞ্চ যাত্রা করতে দুইজন প্রথম শ্রেণির মাস্টারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনবল প্রয়োজন। সকলেই লকডাউনের পূর্বে যার যার বাড়িতে চলে গেছেন। তাছাড়া ঢাকা-বরিশাল রুটের জন্য একটি লঞ্চে প্রায় ৭০ ব্যারেল তেলের প্রয়োজন। যাত্রী না হলে লোকসান দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাতে যখন তারা সরকারি ঘোষণা শুনেছেন ততক্ষণে ঢাকামুখী যাত্রীরা ঢাকার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। এখন যাত্রী নেই।’ যাত্রী না থাকায় লঞ্চ ছাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান।
একই রুটের এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চের সহকারী মহাব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘তারা লঞ্চ চালুর কোন খবরই জানেন না। তাছাড়া নদী বন্দরে ঢাকামুখী কোন যাত্রী নেই। যাত্রী না থাকলে লঞ্চ ছাড়বেন কীভাবে।’
এদিকে শনিবার সন্ধ্যার পর রবিবার দুপুর পর্যন্ত বাস ও লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্তের পর বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বিএমএফ পরিবহনের কয়েকটি বাস ঢাকাগামী যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, এ সিদ্ধান্ত সকালে আসলে হাজার হাজার মানুষকে প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে ট্রাকে করে যেতে হতো না। বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন সরকারের ঘোষণার পরও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বাবলু জানান, সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেই বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।