ডেস্করিপোর্ট স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ সমাপ্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি- ৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স রাজারবাগ, ঢাকায় বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ (ছয়) দিন ব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উদ্বোধন করেন। করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে সংক্রমণের কারণে তিনি দুই বছর পর রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে (ডিএমপি) স্বশরিরে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উদ্বোধন করেন। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য “বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পুলিশ আছে জনতার পাশে”। এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক কুচকাওয়াজ প্যারেড পরিদর্শন ও প্যারেড সালামী গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রদর্শন, সোয়াত টিমের গাড়ী সহ তাদের স্মার্ট টার্ন আউট, বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্যবাহী অশ্বরাহী দল ও বাদক দলের দক্ষতা উপস্থিত দর্শকদের ভাল কাজের ব্যাপারে আশান্বিত করে। পরবর্তীতে তিনি ১১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) সাহসিকতা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসিকতা, বিপিএম সেবা এবং পিপিএম সেবা প্রদান করেন। এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বার্ষিক পুলিশ প্যারেড শেষে তিনি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের সাথে কল্যাণ প্যারেড করেন।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ এর দ্বিতীয় দিনে ঊধ্বর্তন পুলিশ অফিসারগণের উদ্দেশ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার চারটি ভিত্তি নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি।
পুলিশ সপ্তাহের ৩য় দিনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এর আগে একই দিনে রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে বার্ষিক শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম এই দিন শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতা দেখেন এবং বিজয়ী ইউনিটকে পুরস্কৃত করেন এবং ভাল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের আইজি ব্যাচ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সাথে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
পুলিশ সপ্তাহের ৪র্থ দিনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সাথে আইন – শৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করেন এবং ৫ম দিনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। একই দিনে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার) এবং সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার) আগামী এক বছরের জন্য অ্যাসোসিয়েশনের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হয়।
উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে ৬ষ্ঠ দিনের শুরুতে মতবিনিময় করেন আনিসুল হক, এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন, এমপি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শরীফ আহমেদ, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়, মোঃ মাহবুব হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মোঃ আমিনুল ইসলাম খান, সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সচিববৃন্দ এবং সর্বশেষ উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে মতবিনিময় করলেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিবৃন্দ।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে বিভিন্ন দিনে আগত প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। বর্তমান যুগের চাহিদা সাইবার পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা। বক্তাগন আরো বলেন, সরকারের প্রত্যেকটা অরগানাইজেশান একে অপারের পরিপূরক; ফলে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে – ২০৪১ সালের মধ্যে “স্মার্ট বাংলাদেশ” বিনির্মানে তৎপর থাকতে হবে। খুব সামান্য প্রশিক্ষণ থাকা সত্বেও সাইবার অপরাধ জগতের আইনে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ ভালো করে যাচ্ছে। উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট পুলিশ হয়ে ভিশন ২০৪১ সালের “স্মার্ট বাংলাদেশ” গঠনে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারবৃন্দ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অতঃপর রবিবার ৮ জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ৯ টায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ সপ্তাহ – ২০২৩ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সকল পদমর্যাদার উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারবৃন্দ।