বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি করোনা সংকটে সারা দেশের ন্যায় বিপর্যস্ত বরিশালবাবুগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে শ্রমজীবি দরিদ্র জনগোষ্ঠী। প্রচারণা ছাড়াই নিরবে নিভৃতে এসব অসহায় মানুষকে নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব।খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চিনি,চিড়া,আটা,তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
দেশের দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও নেট দুনিয়ায় ত্রাণ বিতরণের মহোৎসব দেখা গেলেও খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামগঞ্জের অনেক লাজুক শ্রেণীর দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার। লজ্জা শরমে তারা না পারছে কারো কাছে হাত পাততে ও না পারছে কিছু বলতে। সবার চোখের আড়ালে খাদ্যাভাবে মানবেতর দিন কাটছে তাদের।

কোনো ধরণের ফটোসেশন ও প্রচারণা ছাড়াই গোপনে এসব অসাহয় মানুষ খুঁজে খুঁজে তাদের তালিকা করে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চিনি,চিড়া,আটা,তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
এছাড়া ও তিনি অনেক কে নগদ সহায়তাও দিয়েছেন। এই মহামারি দুর না হওয়া পর্যন্ত তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ।রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় দের হাজার পরিবারের কাছে তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে প্যেছে দিবেন। তারি ধারাবাহিকতায়
গতকাল বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গির নগর ও কেদারপুর ইউনিয়নে ৪০০ পরিবার এর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবকটিম ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছে এসব সামগ্রী। এসব সামগ্রীর সাথে তিনি একটি ব্যাতিক্রমী লিফলেট দিয়েছেন যাতে করোনা ভাইরাস রোধে করনীয় সহ তার একটি বার্তা সাধারন মানুষের কাছে ব্যাপক ভাবে প্রশংশিত হয়েছে। তার বার্তাটি হল “ আল্লাহ তালা উত্তম রিজিক দাতা, আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য এই রিজিকের ব্যাবস্থা করেছেন । আমি শুধু আপনাদের সেবক হিসেবে উপহার স্বরুপ পৌছে দিচ্ছি মাত্র”
উল্লেখ্য, তার এই মহতি উদ্যোগ কে সফল করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রান পৌছে দেন বাবুগঞ্জ দর্পণ পত্রিকার স্বেচ্ছা সেবক টিম ।
উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব বলেন, দলমতের উর্ধ্বে উঠে উপজেলাবাসী বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে ভাইস-চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। কোনো কিছুর বিনিময়ে জনগণের এই ঋন শোধ হবে না। অামি আমার সাধ্যমত সমাজের অভাবী মানুষকে সাহায্য সহযোগীতা করছি। মানুষ হিসেবে এটা আমার সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য।
বিশেষ করে যারা মানুষের কাছে হাত পাততে অভ্যস্ত নন. এমন মানুষদের খুঁজে খুঁজে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য সহোযোগীতা করা হচ্ছে। পাশাপশি সমাজের হদরিদ্র মানুষকেও নগদ টাকাসহ খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। সাহায্যপ্রার্থীদের সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে চেষ্টা করছি কোনো ধরণের প্রচারপ্রচারণা ও ফটোসেশন ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্খীদের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়া হচ্ছে। ফটোসেশন মুখ্য বিষয় নয়, মানুষর জন্য কি করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বেশি বেশি করে ইবাদত বন্দেগী ও জিকির আজকার করে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি।