ডেক্সরিপোর্ট নিভে গেছে জাতির এক বাতিঘর। অদেখা ভুবনে চলে গেলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আজ বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এর আগে একবার অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়, তাতে নেগেটিভ আসে। আজকে আবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, সন্ধ্যার পর হয়তো রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হার্টের সমস্যার জন্য মারা গেছেন।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ছেলে আকন্দ জামান জানান, বাবার মরদেহ রাতে হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে। জানাজা ও কোথায় দাফন করা হবে সে বিষয়ে আগামীকাল জানানো হবে।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই শিক্ষাবিদ ও লেখক ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে থাকাবস্থাতেই ঢাকায় সপরিবারে চলে আসেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই বিশিষ্ট লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তার কর্মজীবন শেষ করেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে তার। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদও শোক জানিয়েছেন।