নিজস্ব প্রতিবেদক বোনের সম্পত্তি আত্নসাত করতে আপন ভাইয়ের পরিকল্পনায় বোন শামীমা বেগমকে (৪৪)নেত্রকোনা জেলার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে হত্যা ও লাশ নদীতে ফেলে গুম করার অপচেষ্টার ঘটনাটির ক্লু উদঘাটন করেছে কুষ্টিয়ার পুলিশ। হত্যাকান্ডের এক মাস পর পরিকল্পনাকারী নিহতের আপন ভাই শফিউল আজম ও চাচাতো ভাই শামীমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার(৮মার্চ)বেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে লিখিত সংবাদ সম্নেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম।
তিনি জানান, গত ৪ মার্চ কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার রানা খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জনৈক মোঃ শফিউল আজম কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানায় এসে তার বোন মোছাঃ শামীমা বেগম(৪৪) নিখোঁজ হইয়াছে মর্মে সাধারণ ডায়েরীর আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মিরপুর থানা পুলিশ বিষয়টি ডায়েরীভুক্ত করে যাহার নং-১৫২। পরে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলমের নির্দেশনা অনুযায়ী মিরপুর থানা পুলিশ সাধারণ ডায়রী তদন্তকালে ভিকটিমের চাচাতো ভাই শামীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিতে পারেন, ভিকটিম শামীমা’র মা মারা যাওয়ার পরে তার ভাই শফিউল আজম অন্য এক মহিলাকে মা সাজিয়ে তার মায়ের নামে ঢাকায় ৬তলা বাড়ী ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেয়। বিষয়টি ভিকটিমের বাবা জানতে পেরে বাদী হয়ে ঢাকায় সিভিল কোর্টে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন ভিকটিম মোছাঃ শামীমা বেগম। অনুমান ৩০ বছর পূর্বে ভিকটিম শামীমার নেত্রকোনা সদরে বিবাহ হয় এবং খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শামীমা তার বাবার বাড়িতে ঢাকায় বসবাস করত। ভাইয়ের অত্যাচারে একপর্যায়ে শামীমা তার পূর্বের স্বামীর নিকট ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। এই সুযোগে শফিউল আজম তার চাচাতো ভাই শামীমকে নিয়ে তার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ফেব্রুয়ারি মিরপুর(কুষ্টিয়া) থেকে শামীম হোসেন তার চাচাতো বোন শামীমাকে নিয়ে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা শহরে গিয়ে সকালে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ২৮ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে) শফিউল আজম উক্ত হোটেলে দুইজন লোক পাঠায়। শামীম হোসেন অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তির সহযোগিতায় মোছাঃ শামীমা বেগমকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নেত্রকোনা মডেল থানা থেকে ১২ কিঃ মিঃ উত্তর-পূর্ব দিকে কংস নদীতে ফেলে দেয় বলে স্বীকার করে।পরে গত ০৩মার্চ বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উক্ত নদীতে ভাসমান অবস্থায় মহিলার লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ।এ ঘটনায় ৫ মার্চ নেত্রকোনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৮।পরে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় শফিউল আজমকে মিরপুর থানা পুলিশ আটক করে।
সংবাদ সম্নেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, মিরপুর সার্কেল মোঃ আজমল হোসেন সহ মিরপুর থানা পুলিশের সদস্যরা।