শনিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ ইং, রাত ১:১৫

মিসরের আসল সন্ত্রাসী হচ্ছেন সিসি

অনলাইন ডেস্ক  মিসরের বামপন্থি রাজনীতিবিদ ড. মামদুহ হামজা। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কট্টর সমর্থক হিসেবেই ছিলেন পরিচিত। এখন তিনিই সিসির অন্যতম সমালোচক হয়ে উঠেছেন।

মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মামদুহ হামজা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যে কোনো মুহূর্তে সিসির পতন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সিসিকে তিনি অভিহিত করেছেন, মিসরের আসল সন্ত্রাসী হিসেবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি সিসির নেওয়া নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে সিসি যে জনগণের সমর্থন হারাচ্ছেন, সে বিষয়টিও তুলে ধরেন।

হামজা একজন প্রসিদ্ধ প্রকৌশলী। তার হামজা অ্যান্ড কোং নামে একটি কনসালট্যান্সি ফার্ম রয়েছে। তিনি আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরি তৈরিতে অংশ নেন। কিন্তু তার সম্পদ বর্তমানে রাষ্ট্র দখল করে নিয়েছে।

হামজা কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়তেন, তখন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। এর পর তিনি হোসনি মোবারক এবং মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন।
মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে।

যখন সিসি ক্ষমতায় এলেন, হামজা তাকে সমর্থন জানান।

হামজার সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন শুরু হয় মূলত সুয়েজ খালের নতুন শাখা তৈরির সমালোচনা করে একটি আর্টিক্যাল প্রকাশের পর থেকে।

তিনি বলেন, আমি সুয়েজ খালের নতুন শাখা নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লিখি। এটা যে মিসরের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে, তা তুলে ধরি লেখায়। এ ছাড়া কেন আমাদের এ নতুন শাখার দরকার নেই, সে বিষয়েও উল্লেখ ছিল সেখানে। এটিই মূলত টার্নিং পয়েন্ট। এর পর আমি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দিলাম।

সাক্ষাৎকারে নীল নদে দ্য গ্রান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসান্স ড্যামের (জিইআরডি) তীব্র সমালোচনা করেন হামজা।

তার মতে, এ ড্যাম মিসরের জন্য ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং ক্ষুধার কারণে মিসরের ৪০ শতাংশ নাগরিক কর্মহীন হয়ে যেতে পারে।

কয়েক বছর আগে চিকিৎসার জন্য হামজা মিসর ত্যাগ করেন। নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে হামজার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে তিনটি রায় ইস্যু করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে স্থান দেওয়া হয় মিসরের সন্ত্রাসীদের তালিকায়।

এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন হামজা। তিনি বলেন, এটি শোনার পর আমার মনে হচ্ছিল আমার কান দিয়ে যেন আগুন বের হবে। আমার বয়স ৭৩ বছর। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের অধ্যাপক, লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের স্নাতক আমি হঠাৎ করে সন্ত্রাসী হয়ে গেলাম। আমার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা ৬৪। কিন্তু আমি সিসির সরকারের চোখে এখন সন্ত্রাসী। নিজের সমালোচকদের বিরুদ্ধে দেদারসে আইনকে ব্যবহার করছেন সিসি।

এর পর তিনি বলেন, মিসরে সিসিই আসল সন্ত্রাসী।

২০১৩ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে প্রবল গণবিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহামেদ মুরসিকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদচ্যুত করেন সিসি৷ এর পর ২০১৪ সালে তিনি মিসরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।