শামীম আহমেদ আমরা যে পজেটিভ, নির্ভেজাল, প্রযুক্তিগত পুলিশিংয়ে সর্বাগ্রে এগিয়ে আছি, এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের সকল কার্যক্রম জোরদারে আরও তৎপরতা বাড়াতে হবে, কোন একজন সদস্যের অপরিনামদর্শী আচরণে জন্য যেন তা ক্ষুন্ন না হয়। এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান।
আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) পুলিশ লাইন্স বরিশালে বিএমপি’র মাসিক কল্যাণ সভায় এ কথা বলেন তিনি। কল্যাণ সভার শুরুতেই বিএমপি’র সকল সদস্যদের বিবিধ কল্যাণে বিগত মাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও চলতি মাসের বিভিন্ন সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন সভার সভাপতি নগর পুলিশের এই কমিশনার।
এ-সময় তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সুষম খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, আবাসনসহ নানান ধরনের কল্যাণ সাধন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পুলিশের আচার-আচরণ, শৃঙ্খলা, ড্রেসরল সহ নানাবিধ বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেন।
পেন্ডামিক মহামারী মোকাবেলা করে নিরাপত্তার চাহিদা পূরণকল্পে নির্ভেজাল সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে ওপেন হাউজ ডে, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, সচেতনতামূলক কার্যক্রম সহ নানামুখি প্রশংসনীয় কর্মকান্ড সচল রাখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তিনি আরো বলেন,সকলের কল্যাণে, সুন্দর কর্মপরিবেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তথা প্রতিটি সফল অর্জনে প্রকৃত ভূমিকা পালনকারীর জন্য যেমন উদার হস্তে পুরস্কৃত করে থাকি তেমনি জরাজীর্ণ মানসিকতা দিয়ে যারা অগ্রহণযোগ্য কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যাবস্থা রয়েছে সুতরাং জরাজীর্ণ মানসিকতা পিষে মুছে সঠিক নিয়তে কাজ করতে হবে।
ভালো পরিবেশে থাকলে মন ভালো থাকে, কর্মস্থল তথা বসবাসের আশপাশে সবুজ কৃষির মাধ্যমে রুচিসম্মত উপযোগী দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
এই মাস শোকের মাস, মহান মুক্তিকামি নেতা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আজকের এই দিনে কতিপয় বিপদগামী মীরজাফরের দল ষড়যন্ত্র করে নৃশংসভাবে স্ব পরিবারে হত্যা করে। বাংলাদেশ পুলিশের উদ্দেশ্যে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি বলতেন, তোমরা ব্রিটিশ পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানের পুলিশ নও, তোমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ। তাঁর সেই বক্তব্য ও আদর্শ বুকে লালন করে একটি মানবিক পুলিশ তথা জনবান্ধব পুলিশে পরিনত করার প্রত্যয় নিয়ে এ দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি সমৃদ্ধ নিরাপদ সোনার বাংলায় পরিনত করা সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কল্যাণ সভা শেষে, অবসর নেওয়া সহকর্মীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও ভালো কাজ এবং বিভিন্ন আভিযানিক কাজের সফলতার জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।