বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, সকাল ৮:২৮

দেশে তৈরি হবে চালকবিহীন গাড়ি

ডেস্করিপোর্ট  বিশ্বের অটোমোটিভ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা নাম ফর্মুলা স্টুডেন্ট ইউকে। ফর্মুলা রেসিং কার তৈরির এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারও শিক্ষার্থী।

এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম প্রাইমাস’ নামের তরুণ উদ্ভাবনী দল কম্বাস্টন ইঞ্জিনের গাড়ি তৈরি করে নিয়ে অংশগ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় টিম প্রাইমাসের কয়েকজন সদস্যসহ আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী মিলে ‘সার্কিট মেস্টারস’ নামের একটি দল গঠন করে।

ফরমুলা স্টুডেন্ট ইউকে-২০২২ কেন্দ্র করে নিজেদের স্বপ্নের চালকবিহীন গাড়ি বানিয়ে যুক্তরাজ্যের সিলভারস্টোন সার্কিটে নামতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন এসব শিক্ষার্থীরা।

২০১৯ সালে টিম প্রাইমাসের গাড়িটি ছিল একটি ৬০০ সিসি ইঞ্জিনযুক্ত চালকচালিত গাড়ি। এবার সার্কিট মেস্টারস বানাচ্ছে বৈদ্যুতিক ৮০ কিলোওয়াট মোটরযুক্ত সম্পূর্ণ কম্পিউটার চালিত গাড়ি, যা কম আলোতেও ড্রাইভারের সাহায্য ছাড়াই চলতে পারবে।

বিশ্বব্যাপি চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে; যা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে। তাই শিক্ষার্থীরা এ দুঃসাহসী গবেষণামূলক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ।

এ বিষয়ে দলটির সুপারভাইজর, আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. এহতেসানুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে চালকবিহীন গাড়ির গবেষণা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমার বিশ্বাস এই চালকবিহীন গাড়ি প্রকল্প শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতা, জটিল প্রকৌশল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের এ রকম কাজ এ অনুপ্রেরণা দেবে।

২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করেছিল এই তরুণ দলটি। ২০২১ সালেই গাড়ি তৈরি করে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে দলটি কাজ করছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে দলটি গাড়িটির নাম দিয়েছিল ‘ভিসন ২০২১’।

কিন্তু কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা তাদের সময় মতো বিভিন্ন দেশ থেকে চালকবিহীন গাড়ি তৈরির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সময় মতো আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়নি।

বাংলাদেশ থেকে বিগত সকল অটোমোবাইল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো থেকে প্রযুক্তিগতভাবে সার্কিট মেস্টারস অনেক উন্নত। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বাংলাদেশে এই প্রথম।

দলটির লক্ষ্য অর্জনের পথে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা গাড়ি তৈরির সরঞ্জাম বাবদ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। বাকি সরঞ্জাম ক্রয় করতে, প্রতিযোগিতার সময় গাড়িটি যুক্তরাজ্যের সিলভারস্টোনে পাঠানো এবং প্রতিযোগিতা শেষে দেশে ফেরত আনার জন্য তাদের প্রয়োজন আরও মোট ৪০ লাখ টাকা।

পৃষ্ঠপোষকতার খোঁজে দলটির কয়েকজন শিক্ষার্থী অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে, সেখানে সার্কিট মেস্টারস দেশীয় প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অবদান রাখতে পারে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ শুভক্ষণে সার্কিট মেস্টারস বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে প্রতিনিধিত্ব করতে বদ্ধপরিকর। ফলে আজ তারা তাদের স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।