শনিবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ২:৫৭
শিরোনাম :
বিএম কলেজে আপত্তিকর অবস্থায় বহিরাগত তরুণ তরুণী আটক বিএম কলেজের ছাত্রীনিবাসে চোর আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা দেশে কেউ সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নয়, সব নাগরিকের পরিচয় বাংলাদেশি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ বরিশাল চরকাউয়ায় মসজিদ-মন্দিরের নানা অব্যবস্থাপনা, দ্রুত সমাধান জরুরী সিসা দূষণ প্রতিরোধে বিএম কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা বিআরটিসি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপনের প্রতিবাদ

বিএম কলেজের ছাত্রীনিবাসে চোর আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

মোঃ মেহেরাব হোসেন রিফাত, বরিশাল ।। বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের ভিতরে গভীর রাতে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে (চোর) দেখতে পাওয়াকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হলের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এই ঘটনায় বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে ছাত্রীনিবাসের ভিতরের পুকুরপাড়ে এক অপরিচিত (চোর) ব্যক্তিকে দেখতে পান হলের নাইট গার্ড। পরে বিষয়টি হলের শিক্ষার্থীরা জানলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সেই মুহুর্তে বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। হলের শিক্ষার্থীরা নিচে নেমে নিজেদের মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে ওই ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করেন। তবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি হলের সহকারী হল সুপার সহকারী অধ্যাপক মনিরা আক্তার জানানো হলে তিনি দ্রুত শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যান। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দল ভাগ করে রাতভর হলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ফজর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নিকটবর্তী নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সদস্যরা সেখানে যান। তবে তাঁদের কয়েকজনের কথা বলার ধরন ও আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, গত রাতে হলের পুকুরপাড়ে একজন অপরিচিত পুরুষকে দেখে আমাদের নাইট গার্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসি। নিজেদের ফোনের আলো জ্বালিয়ে আমরা ওই ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করি। পরে হলের ম্যাডাম পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আসে। তবে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের আচরণ ও কথা বলার ধরন নিয়েও আমাদের আপত্তি রয়েছে। নিজেদের আবাসিক হলেই যদি আমরা নিরাপদ বোধ না করি, তাহলে নিরাপদ থাকব কোথায়। আমাদের অভিভাবকেরা বিশ্বাস করে আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে চাই না নিরাপদ পরিবেশে থাকতে চাই। আমরা কোনো দায়সারা আশ্বাস চাই না, কার্যকর পদক্ষেপ চাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা থাকলে তার জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা আমাদের দয়া নয়, অধিকার।

হলের আরেক শিক্ষার্থী জানান বলেন, একজন নাইট গার্ড বিষয়টি টের পেয়ে সবাইকে সতর্ক করায় আমরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাই। কিন্তু এ ঘটনা আমাদের হলের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আমরা সিট নবায়ন বাবদ আগে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং বর্তমানে ৪ হাজার টাকা করে দিই। এরপরও যদি হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমাদের দেওয়া অর্থের বিনিময়ে আমরা কী ধরনের নিরাপত্তা পাচ্ছি। সন্ধ্যা ৭টার পর হলে প্রবেশের বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও রাতে পুরো হলের নিরাপত্তায় মাত্র একজন গার্ড দায়িত্ব পালন করেন। এই বিধিনিষেধ কি সত্যিই ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, নাকি শুধু তাদের চলাচল সীমিত করছে। একটি ছাত্রীনিবাসে এমন স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনের আরও দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল। আমরা রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, হলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সব জায়গা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং সিট নবায়ন ও সেশন ফিসহ সংশ্লিষ্ট ফি আদায়ের স্বচ্ছ হিসাব চাই। আমরা আতঙ্ক নিয়ে হলে থাকতে চাই না নিরাপদ পরিবেশ ও প্রশাসনের জবাবদিহি চাই।

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহফুজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির বিষয়। চোর ঢোকার অভিযোগ পেয়ে আমাদের নাইট ডিউটি পার্টি সেখানে যায়। পরবর্তী সময়ে কথা বলার সময় হয়তো ভিন্ন অর্থ তৈরি হতে পারে কিংবা কোনো স্লিপ অব টাং হয়ে থাকতে পারে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজে রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করি। পুলিশ একটি পেশাদার সংস্থা, এখানে বুলিং করার কোনো সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল হয়তো কথা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি, কারণ সবার কথা বলার ধরন এক নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি গত রাতেই সমাধান করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। ঘটনাটি ইতিমধ্যে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছি।

এদিকে হলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে সহকারী হল সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বনমালী ছাত্রীনিবাসের উত্তর ও পশ্চিম পাশ অনেকটা অরক্ষিত। চারদিকে দেয়াল থাকলেও সময়ের সঙ্গে দেয়ালের বাইরের অংশ ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে। ফলে দেয়াল টপকে হোস্টেলে প্রবেশ করা সহজ হয়ে গেছে। এই সুযোগই চোরেরা নেয়। উত্তর পশ্চিম দিক দিয়ে ঢুকে এর আগেও হ্যালোজেন লাইটের তার চুরি করা হয়েছে। তবে হলের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। হলের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আজ রাত ৯টায় অধ্যক্ষ সেখানে আসবেন।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ বলেন, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি হলের সুপার ও সংশ্লিষ্টদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, আমি নিজে হল পরিদর্শন করব এবং কোথায় কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করব। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় যা যা করণীয়, বিএম কলেজ প্রশাসন ইনশাআল্লাহ সবই করবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, হলের নিরাপত্তাব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন চান তাঁরা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।