নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজেই ঠিকাদারীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ বাগানোর অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম, বিল আটকে রাখা এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। তাঁর অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন ও নিরাপত্তা জামানত ফেরতের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে হস্তান্তর, দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার, দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টন ও সাবকন্ট্রাক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বেনামে মালিকানায় থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং কাজ বণ্টন করছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক ঠিকাদার মাসের পর মাস বিল পাচ্ছেন না। এতে ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সংকট তৈরি হচ্ছে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে প্রতিযোগী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কাজের মান, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দরপত্র, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বরের ঘটনার পরদিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ২০৭৬ নম্বরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে অফিসে গিয়ে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।