মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং, সকাল ৯:৩৩
শিরোনাম :
সমঝোতা চুক্তি ইরানের জনগণের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের রূপরেখা দিয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট : আলতাফ হোসেন চৌধুরী লক্ষ্মীপুরে গণপিটুনিতে নিহত ঘাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর তিন দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে হবে: শিক্ষা মন্ত্রী জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তরে সেলিম, দক্ষিণে সাদিককে মেয়রপ্রার্থী করল জামায়াত আওয়ামী লীগ নেতা মামা খোকন আটক

যে কারণে ইরানি প্রেসিডেন্টের বিচার চান মার্কিন রাজনীতিবিদরা

অনলাইন ডেস্ক  ইব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চলতি বছরের আগস্টে। এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিশ্বের নানা প্রান্তে আওয়াজ ওঠে। এর কারণ হলো—তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে— তিনি ইরানে ১৯৮৮ সালে গণহত্যা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন হিলটনের গ্র্যান্ড বলরুমে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই)। এটি এমন একটি রাজনৈতিক জোট, যারা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। এ জোটের সম্মেলনে অংশ নেন মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সাবেক সদস্য। সম্মেলনে ১৯৮৮ সালে ৩০ হাজারের মতো রাজনৈতিক বন্দিকে হত্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ভূমিকার কারণে তার বিরুদ্ধে আনা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার’ অভিযোগের বিচারের দাবিকে সমর্থন করেন মার্কিন রাজনীতিকরা।

রাইসি শপথ নেওয়ার পর তার মন্ত্রিসভা এমনভাবে সাজিয়েছেন যেখানে দায়িত্ব পাওয়া অনেকের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

এনসিআরআই বলছে, মন্ত্রিসভার ১৯ আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, সাবেক সিনেটর জোসেফ লিবারম্যান ও রবার্ট টরিসেলি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল মুকাসে এবং অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জেমস কনওয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের বিচারের দাবিতে সমর্থন জানান।

মাইক পেন্স বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইব্রাহিম রাইসিকে নির্বাচিত করা দেশটির শাসনব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা ও হতাশার লক্ষণ। তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে যেন ইরানের মানুষকে চুপ রাখা যায়। কিন্তু চুপ থাকলে চলবে না।

এনসিআরআইয়ের সভাপতি মরিয়ম রাজাভী বলেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলার জন্য ড্রোন তৈরি এবং সমগ্র অঞ্চলজুড়ে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে শীর্ষ সম্মেলনটি শুরু হয়েছিল।

‘ইরানের জনগণ এবং তাদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার পাশে থাকার সময় এসেছে। ইরানের জনগণ স্পষ্টভাবে তাদের দাবি এবং পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরেছে। তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে’, যোগ করেন মরিয়ম রাজাভী।

মরিয়ম রাজাভী আরও বলেন, ইরানের জনগণ আশা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করবে। তিনি গণহত্যাকারী। তার বিচার এখনই করতে হবে, পরে নয়।

এনসিআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে ইরানে প্রায় ৩০ হাজারের মতো রাজনৈতিক বন্দিকে হত্যা করা হয়। যাদের ৯০ শতাংশ মুজাহিদিন-ই-খালাকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাইসি সেই সময় ‘ডেথ কমিশনের’ সদস্য ছিলেন, যিনি এ গণহত্যার জন্য দায়ী।