রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ ইং, দুপুর ১২:৫৫
শিরোনাম :
কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা নয়: এড.আতিকুর রহমান গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিলেন ১০ নেতাকর্মী! চ্যানেল আই’র ২৮ বছরে বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা এক কনস্টেবলে অতিষ্ঠ শেবাচিম হাসপাতাল ঢাকায় আরও দুটি মেট্রোরেল হবে,সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন রূপাতলীতে শ্রমিকনেতা কাওছার হোসেনের নেতৃত্বে চাঁদামুক্ত পরিবেশে স্বস্তিতে আলফা-সিএনজি চালকরা! বরিশালে বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ বিএম কলেজে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত

নাটোরে পদ্মার পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট ।। নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল পানিতে ডুবে গেছে, প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১৮ গ্রামের ৫ শতাধিক বসতবাড়ি।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১২ দশমিক ৯০ মিটার। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড়শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিকসহ প্রায় ১৮টি চর এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিলমাড়ীয়া গ্রামের মুনতাজ আলী জানান, তার ৩ বিঘা জমির চালকুমড়ার খেত তলিয়ে গেছে।

আরাজি বাকনাই চরের আলাল আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের চালকুমড়া, আখসহ প্রায় শত বিঘা জমির ফসল ডুবে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে- লালপুরে বন্যায় ৪৯৫ হেক্টর আখ, ১২ হেক্টর শাকসবজি এবং ১১ হেক্টর কলাসহ প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে বন্যায় গো-খাদ্য সংকটে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের গরু মহিষ খামারিরা। ইলশামারী চরের খামারি আরিফ মন্ডল জানান, বন্যায় গরু মহিষ নিয়ে চরম দুর্ভোগে; আছি কোথাও কোনো ঘাস নেই। সব তলিয়ে গেছে।

বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, গত কয়েক দিন নদীর পানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি খেত। নদীর পানি বৃদ্ধি ফলে বন্যায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানান, ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দিয়েছি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করার জন্য তাদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে, চর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।