সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৩:০২
শিরোনাম :
সাংবাদিক আকিবকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার-সম্মানহানির চেষ্টা, বিভিন্ন মহলের নিন্দা বরিশালে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত প্রতিশোধ নয়—ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সমাজ গড়তে চাই: রাষ্ট্রপতি চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে যানজট নিরসনে ঢাকার ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অনিয়ম,দুর্নীতি ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢোকার চেষ্টা, যুবক আটক দেশে হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯১৭

সাংবাদিক আকিবকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার-সম্মানহানির চেষ্টা, বিভিন্ন মহলের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশালের ফটো সাংবাদিক আকিবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও সম্মানহানি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ফটো সাংবাদিক আকিব দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সুনামের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি গত প্রায় দুই মাস ধরে নগরীর মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি আল্ট্রাসনো ডেস্কের ২১০ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানা গেছে।

আকিবের দাবি, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন বরিশালসহ বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আসেন। রোগীরা নির্ধারিত নিয়মে রশিদ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। আর সেই ক্ষোভ থেকেই তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাংবাদিক আকিব বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছি। রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সবাইকে সন্তুষ্ট করা সবসময় সম্ভব হয় না। কোনো বিষয়ে কেউ ক্ষুব্ধ হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফেইক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব ফেইক আইডি ও অ্যাকাউন্ট থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেসব আইডির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে কোনো ব্যক্তির ছবি, নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এতে একজন ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোনো অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এদিকে সাংবাদিক আকিবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগের ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আকিবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ বা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আকিব বলেন, “গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ভালো একটি চাকরির আশায় অনেক চেষ্টা করেছি। কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে পার্টটাইম হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হই। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছোট একটি চাকরি নিয়েছি। নিজের পরিশ্রমে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাটাই যেন কিছু মানুষের চোখে অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে ফেইক আইডি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্মান নয়, দীর্ঘদিনের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”