মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:১১
শিরোনাম :
নানা আয়োজনে বরিশালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পদ্মা সেতুতে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮ ডা. অমিতাভের কাছে তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সহ হাজারো রোগী জিম্মি, মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর নির্দেশ কোলের সন্তান বিক্রি করে আইফোন কিনলেন বাবা সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, থাকতে পারে আরও পাঁচ দিন তুরস্কের পর কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান

বরিশালে বাংলা প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা!

ডেক্সরিপোর্ট  ব‌রিশালে এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের সিলেবাসে বাংলা প্রথম পত্রের (বহুনির্বাচনি অভীক্ষা) নৈব্যত্তিক পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জগদীশ সরস্বতী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম।

তিনি জানান, এ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর ২০১৯-২০ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পরে তাদের পাঠক্রমের সঙ্গে প্রশ্নের কোনো মিল পাইনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলেও পরীক্ষা শেষে এর কোনো সুরাহা হয়নি। এছাড়া ওই প্রশ্নের খাতায়ও কোনো উত্তর দিতে পারেনি পরীক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, দু‌টি ক‌ক্ষের বেশকিছু শিক্ষার্থী বাংলা প্রথম প‌ত্রের নৈব্যত্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন নি‌য়ে পরীক্ষা শে‌ষে অন্য শিক্ষার্থী‌দের সা‌থে আ‌লোচনা কা‌লে বিষয়‌টি নজ‌রে আসে। বিষয়‌টি তারা স্কুল কতৃপক্ষ‌কে অবহিত ক‌রেন। মূলত ২০২০ সা‌লের সি‌লেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা প্রশ্ন হওয়ার কথা। পরীক্ষা শে‌ষে বিষয়‌টি নজ‌রে আসায় কান্নায় ভে‌ঙে প‌রে তারা।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, এসএস‌সির নৈব্যত্তিক (বহুনির্বাচনি অভীক্ষা )পরীক্ষা ত্রিশ মিনিটের ও ত্রিশ মার্কসের। এই পরীক্ষা প্রথমেই দিতে হয়। তাদের সুযোগ ছিলনা হলে বসে সিলেবাস যে ২০১৮ সালের ছিল তা দেখার। এই ভুল যারা প্রশ্ন বন্টন করেছে তাদের। এজন্য তারা পরীক্ষায় সঠিক উত্তর দিতে পারেনি বলে চিন্তিত।

অ‌ভিভাবকরা জানান, এ অবস্থায় পরীক্ষার মূল্যায়ন হ‌লে যেসব শিক্ষার্থী ২০১৮ সা‌লের প্রশ্নে পরীক্ষা দি‌য়ে‌ছে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হ‌বে। এ ঘটনার সমাধান না হ‌লে তার স্কু‌লের ভা‌লো শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় হ‌বে। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার ক্ষে‌ত্রেও সমস্যা তৈরী হ‌বে।

তবে কেন্দ্র সচিব ও হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম ফকরুজ্জামান জানিয়েছেন, অর্ধশতাধিক নয়, ১৭ জন পরীক্ষার্থীর এ সমস্যা হতে পারে। কারন বোর্ড থেকে অনিয়মিত অর্থাৎ ২০১৮ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন মাত্র একটি খামে ২০ টিই এই কেন্দ্রে এসেছে। আর এ কেন্দ্রে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৩ জন, বাকী থাকা ১৭ টি প্রশ্ন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ জন্য কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা দায়ি, তবে বোর্ড চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষনকি জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষনিক কেন্দ্রে আসেন এবং পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস বলেন, কেন্দ্রে প্রশ্ন বিতরণের দায়িত্ব থাকা শিক্ষক ও পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা এজন্য দায়ি। আগামীকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়িদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা হয়েছে। বোর্ডের নিজস্ব একটি ক্ষমতা রয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় প্রাপ্য নাম্বার পেতে কোন অসুবিধা হবে না। এই শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হবে। পরীক্ষার্থীদের পরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।