অরবিন্দ রায়,নরসিংদী নরসিংদীতে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে চরাঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি। মানুষের মনে নেই ঈদের আনন্দ। প্রতি বছরই মেঘনাগর্ভে বিলীন হচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থানসহ শত শত ঘরবাড়ি। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব ভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হলেও ভাঙন রোধে চোখে পড়ার মতো নেওয়া হচ্ছে না কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। আর ভাঙনের কবলে পড়ে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
জানা গেছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চানপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, ইমামদীরকান্দি ও সদাগরকান্দি এবং চরমধুয়া ইউনিয়নের বীর চরমধুয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক বসতভিটা। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেইসঙ্গে বিগত এক মাসে অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমি। সব হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঘরবাড়ি না থাকলে সেমাই ও চিড়ামুড়ি দিয়ে কতদিন চলবে। একটু জায়গা থাকলে মাথার ওপর কাগজ দিয়ে থাকতে পারতাম। নদীভাঙন তো ঘরবাড়ি সবকিছুই কেড়ে নিল। একটি থালাবাসনও রাখতে পারিনি। অন্যদিকে ভাঙনের আশঙ্কায় অনেককেই আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। অনেকে আবার নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
এলাকাবাসীর জানান, নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আরও শত শত পরিবারসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোমেন সরকার জানান, ‘নদী ভাঙন এলাকা পরির্দশন করে শুকনা খবারের ব্যবস্থা করেছি। ইউএনও’র মাধ্যমে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার জন্য তালিকা প্রস্তুত করছি।’
নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলের করিমপুর ইউনিয়নের শুঁটকিকান্দি ও শ্রীনগর গ্রামেও নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুই গ্রামের দেড় শতাধিক বাড়িঘরসহ শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙনের আশঙ্কায় নিজ উদ্যোগে অনেকে সরিয়ে নিয়েছেন গ্রামের আরও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। বাড়িঘর হারিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে আবার কেউবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বসবাস করছেন ভাঙনকবলিত গ্রামের মানুষ। নদীতীরে বালির বস্তা ফেলে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি।
চরমধুয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান জানান, প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে ফসলি জমি ও বাড়িঘর হারিয়ে এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছে।
নরসিংদী জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভাঙন ঠেকাতে হলে নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। তা না হলে চরাঞ্চলকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে এলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।