ডেস্ক রিপোর্ট পাবনার আতাইকুলা থানায় আত্মহত্যাকারী এসআই হাসান আলী (২৮) বিসিএস পরীক্ষার জন্য কোনো ছুটি চাননি। শুধু তাই নয়, তিনি বিসিএস পরীক্ষার জন্য কোনো অনুমতিও চাননি।
এমনটি দাবি করেছেন হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসানের বাবা-মাসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ সকালে পাবনার আতাইকুলা থানার ছাদ থেকে এসআই হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল জব্বার বিশ্বাসের ছেলে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) শামিমা আখতার মিলি জানান, হাসান আলী প্রশিক্ষণ শেষ করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আতাইকুলা থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। এ মৃত্যুর ঘটনার দিনই পাবনার পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকনুজ্জামান সরকার এবং ডিআইও-১ মো. আশরাফ আলী।
সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির আমন্ত্রণে হাসান আলীর বাবা-মাসহ স্বজনদের ১২ সদস্য বৃহস্পতিবার পাবনায় আসেন। স্বজনরা বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
এ সময় তারা হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে বিবৃতি দেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানের সঙ্গেও দেখা করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান মাসুদ আলম জানান, ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং এর অংশ হিসেবে হাসানের বাবা আ. জব্বার, মা আলেয়া খাতুন, চাচা হাবিবুর রহমান এবং চাচি হালিমাসহ স্বজনদের পাবনায় আসার জন্য বলা হলে তারা বৃহস্পতিবার পাবনায় আসেন। এরপর তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়।
মাসুদ আলম বলেন, হাসান আলীর অনেক ডিফেক্ট ছিল, তার মধ্যে হতাশা কাজ করতো। তিনি মৃত্যুর আগে বিভিন্ন জায়গায় এলোমেলো অনেক কথা লিখে গেছেন। অনেক স্থানে লিখেছেন-আমি মরতে চাই। এমনকি সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কোর্সে পরীক্ষার খাতায় তিনি এক জায়গায় লেখেন- আমি মরতে চাই। হাসানের ডায়েরিতে এসব লেখা বাবা-মাসহ স্বজনরা দেখেছেন।
তিনি বলেন, হাসানকে বিসিএস পরীক্ষার জন্য ছুটি দেয়া হয়নি মর্মে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি বিসিএস পরীক্ষার জন্য কোনো ছুটি চাননি। এমনকি বিসিএস পরীক্ষার জন্য কোনো অনুমতিও চাননি। পরিবারের সদস্যরাও তদন্ত কমিটির কাছে এমন অভিযোগ করেননি।
তিনি বলেন, প্রথম থেকেই সার্বিক দিক বিবেচনায় ধারণা করা হয়, হাসান নিজের ব্যবহৃত পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন।