শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ ইং, বিকাল ৩:০৯
শিরোনাম :
মঠবাড়িয়ায় চোরের হামলায় অটো চালক জখম বরিশাল পেশাজীবী ফোরামের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিযান, অফিস ছেড়ে পালালেন কাজী আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুগত কারণে জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা বরিশালে শুরু হচ্ছে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, কোর্স সম্পন্ন হলেই নিয়োগ মানবতাবিরোধী অপরাধ: হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড সমঝোতা চুক্তি ইরানের জনগণের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের রূপরেখা দিয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট : আলতাফ হোসেন চৌধুরী লক্ষ্মীপুরে গণপিটুনিতে নিহত ঘাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

কর্মস্থলে ফিরতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরীতে জনস্রোত

কামরুজ্জামান শাহীন,ভোলা  সরকার হঠাৎ রোববার (১আগস্ট) থেকে শিল্প,কলকারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণায় কর্মস্থলে ফিরতে কর্মজীবি মানুষগুলো মরিয়া হয়ে উঠছে। তাই ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ইলিশা ফেরিঘাট ও ফেরীতে রুপ নিয়েছে জনস্রোত।

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ইলিশা ফেরিঘাট থেকে কৃষ্ণানী, কনকচাঁপা ও কুসুমকলি নামে তিনটি ফেরি ছেড়ে যায়। প্রতিটি ফেরিতেই ছিল জনস্রোত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলার ৭ উপজেলা থেকে কর্মস্থলে ফিরতে আসা হাজারও যাত্রী ছোট-বড় ব্যাগ নিয়ে ফেরি ঘাটে এসে অপেক্ষা করছেন পারাপারের জন্য। ঘাটে ফেরি ভিড়লেই রীতিমতো প্রতিযোগিতা করেই উঠছেন ফেরীতে। কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামীর সংখ্যাই বেশি।

কর্মস্থলে ফিরতে ইলিশা ফেরি ঘাটে আসা ঢাকাগামী যাত্রী আসমা বেগম জানান, পোশাক কারখানায় চাকরি করে সংসার চালাতে হয়। তাই গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানা খোলার খবর পেয়েই তারা রওনা দিয়েছেন। ১ আগস্ট কাজে যোগদান না দিতে পারলে চাকরি থাকবে না।

কর্মস্থলে ফিরতে ইলিশা ফেরি ঘাটে আসা চট্রগ্রামগামী যাত্রী আনজরা বেগম বলেন, পোশাক কারখানায় চাকরি করে নিজে ও সংসার চালাই। তাই কারখানা খোলার খবর শুনেই রওনা দিয়েছেন। ১ আগস্ট কাজে যোগদান না দিতে পারলে চাকরি থাকবে না। আর চাকরী না থাকলে কেমনে চলবো। তাই শনিবার (৩১ জুলাই) সকালেই ইলিশা ফেরিঘাটে পৌঁছলেও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষার পর ফেরিতে উঠছেন। তার মত এমন অনেকই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা পর ফেরীতে উঠছেন।

কর্মস্থলে ফিরতে ইলিশা ফেরি ঘাটে আসা যাত্রী মো. আাব্বাস জানান, কর্মস্থলে যোগ দিতে পরিবার নিয়ে রওনা হলেও কীভাবে ঢাকায় পৌঁছাবো তা বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, চাকরি বাঁচাতে পায়ে হেঁটে বা নদী সাঁতরিয়ে হলেও পার হয়ে যেতেই হবে কর্মস্থলে। নাহলে চাকরি যে থাকবে না।
আয়শা বেগম নামের এক গামেন্টর্স কর্মী জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেই লাফ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে উঠতে হয়েছে। এত মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো সুযোগই নেই।

শনিবার সকাল থেকেই ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে থাকলেও যাত্রীদের কোনোভাবেই তারা বাঁধা দিয়ে রাখতে পারছেন না।

ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ জালাল জানান, ফেরিঘাটে আসা যাত্রীদের অনেকভাবে বাঁধা দিয়েও আটকানো যাচ্ছে না। তারা কর্মস্থলে ফিরতে মরিয়া।