শামীম আহমেদ চৈত্রের এই তিথিতে অন্নপূর্ণা পূজা হয়। শনিবার অশোকাস্টমী। এই দিন পাপ মুক্তির জন্য পূন্য স্নানের রেওয়াজ চলছে শত বছর ধরে। অশোকাস্টমীর পূন্য তিথিতে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিতে শনিবার সকাল ৬টা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পুণ্যস্নানে আসতে শুরু করেছেন।
পূন্যারথী ভক্তদের ঢল নেমেছে দূরগা সাগর দীঘিতে।সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূন্যস্নান চলবে বলে জানিয়েছেন স্নান উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ও মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। পূন্যস্নানে আসা ভক্তরা জানান, শুক্রবার রাত ৯টা ১৩ মিনিটে এই স্নানোৎসবের তিথি শুরু হয়েছে । আজ শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শেষ হবে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের এই অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বরিশাল ছাড়াও অন্যনান্য জেলা থেকে থেকে দূরগা সাগর দিঘিতে আসেন পুণ্যস্নানের জন্য। স্নানে আাসা পূন্যারথীদের বিশ্বাস, অশোকাস্টমীর তিথিতে দীঘিতে স্নান করলে পাপমোচন হয়। এই জলে স্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়।
পুণ্যস্নান উপলক্ষে দুর্গাসাগর দিঘির পাশেই স্থানীয় মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ স্কুল ও কলেজ মাঠে বসেছে মেলা। মেলায় এসেছে হস্ত,কুটিরশিল্প ও ভোগ্য পন্যের অর্ধ শতাধিক পসরা। পুণ্যস্নানে আগতরা এই মেলা উপভোগ করেন। মেলা ও পুণ্যস্নান ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক দিলীপ কুমার রায় জানান, পুণ্যস্নান ও মেলা উপলক্ষে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি চলে। প্রতিবছর এই তিথিতে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী এখানে আসেন পুণ্যস্নানের জন্য। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষের আগমনে এই এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, করোনার কারনে গত দুই বছর পুন্যস্না উৎসব হয়নি। এবার আয়োজন করা হয়েছে। এতে লোক সমাগমও বেশী। দুর্গাসাগর দিঘির পাশের প্রবীণ বাসিন্দা রুহুল আমিন(৬০) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই দিঘিতে পুণ্যস্নান দেখে আসছি। এ ছাড়া বাবা-দাদার মুখেও পুণ্যস্নান হতো বলে শুনেছি’। সকালে দিঘিপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, আগত ভক্তরা দিঘির পাশের বটতলায় একটি নির্দিষ্ট স্থানেপূজা-অর্চনা করছেন।
শেষে তারা দিঘিতে স্নান করছেন। বরিশাল নগরী থেকে দূর্গাসাগর দিঘিতে স্নান করতে এসেছেন কালীবাড়ি সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্র । তিনি বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও পুণ্যলাভের জন্য এখানে স্নান করতে আসতেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুণ্যলাভের জন্য তাঁরাও সন্তানকে নিয়ে এখানে এসেছেন।
দূর্গাসাগর দীঘিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশ, গ্রম পুলিশ সহ দুই শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে স্নান উপলক্ষে। দীঘিতেও নৌকা নিয়ে টহলের ব্যাবস্হা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাতুল ইসলাম বলেন, তিথি অনুযায়ী শনিবার রাত সোয়া ১১ টা পর্যন্ত স্নানের সময়সীমা থাকলেও নিরাপত্তার কারনে আজ সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যেই তা শেষ করার নির্দেশনা আছে।