ডেস্করিপোর্ট কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে মার্কস একটিভ স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়ন ২০২২ এর প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট ২০২২) দুপুর সাড়ে ১২ টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে মার্কস একটিভ স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়ন ২০২২ এর প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত। পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া মোঃ খাইরুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া জেলায় মার্কস একটিভ স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়ন ২০২২ এর প্রচার কার্যক্রম ৩ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এবং এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক স্কুলের ছাত্র – ছাত্রীদের ১৭ আগস্টের মধ্যে এন্ট্রির কার্যক্রম শেষ করতে হবে। শুধুমাত্র এন্ট্রি ভুক্ত স্কুলের ছাত্র – ছাত্রীদের নিয়েই ১৮ আগস্ট পুলিশ লাইন্স কুষ্টিয়ায় দাবা কর্মশালা অনুষ্ঠিত এবং ১৯ ও ২০ আগস্ট মার্কস একটিভ স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়ন ২০২২ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া মোঃ খাইরুল আলম বলেন, দাবা একটি প্রাচীন ও জনপ্রিয় খেলা যা ১৩০০ বছর আগে অর্থাৎ ষষ্ঠ শতাব্দীতে চীন, ইন্ডিয়া অথবা পার্সিয়ায় প্রথম দাবা খেলার উদ্ভব হয়েছিল। এই দাবা খেলা ভারত বর্ষের একটি জনপ্রিয় খেলা হলেও বর্তমানে রাশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশসমূহ এই দাবা খেলায় খুব ভালো করছে। তিনি আরো বলেন দাবা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা, দাবা খেলার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়; যা আমাদের চিন্তা করার দক্ষতা প্রদান করে। এই দাবা খেলা ছোটদের মানসিক বিকাশ সাধন করে ; তাদের কাজে মনোযোগ বাড়িয়ে দিয়ে থাকে ; এমনকি বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানও কিন্তু এই দাবা খেলার মাধ্যমে আমরা আয়ত্ত করে থাকি।
দাবা খেলা মূলত গুটি চাল দিয়ে বিপক্ষ রাজাকে কোণঠাসা করে এমন স্থানে যেতে বাধ্য করা, যেখান থেকে রাজার আর কোন চাল থাকেনা, দাবার পরিভাষায় একে কিস্তিমাত বলা হয়। বিশ্ব দাবা সংস্থা ফিদে নামে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশন কে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ফিদে (FIDE) নামক এই আন্তর্জাতিক সংগঠন। এটি একটি ফরাসি শব্দ যার পূর্ণ অর্থ হলো “ফেডেরাসিওঁ ইন্তারনেসিওনাল দে ইশেক”। সুইজারল্যান্ডের লো-জান (Lausanne) শহরে ফিদে (FIDE) এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
দাবা খেলায় পারদর্শীতার সর্বোচ্চ স্বীকৃত পর্যায় বা লেভেল হচ্ছে গ্রান্ড মাস্টার। ফিদে যাকে গ্র্যান্ডমাস্টার বলে স্বীকৃতি দেয় তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার। বাংলাদেশের দাবা খেলায় গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ, রানী হামিদ, রিফাত বিন সাত্তার, ভারতের বিশ্বনাথন আনন্দ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ববি ফিশার, ইংল্যান্ডের নাইজেল শর্ট, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের গ্যারি কাসপারভ ও কারপভ।

পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া মোঃ খাইরুল আলম আরো বলেন, বাংলাদেশে দাবা খেলা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ও সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় নিয়মিতভাবে দাবা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এই কারণে আমরা আশা করতে পারি যে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরো অনেক গ্র্যান্ডমাস্টার তৈরি হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), ডাঃ রতন কুমার পাল, সম্পাদক, দাবা উপপর্ষদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা কুষ্টিয়া ও অর্থোপেডিক্স সার্জন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মোঃ রমজান আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার, কুষ্টিয়া, মোঃ এফতে খাইরুল আলম, প্রধান শিক্ষক, জিলা স্কুল, মোঃ ইকরামুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সদর উপজেলা, মোঃ রশিদুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, কুমারখালী উপজেলা, মোঃ শহীদুজ্জামান, আরওআই, রিজার্ভ অফিস কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষক – শিক্ষিকা মন্ডলী, ছাত্র – ছাত্রীবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক প্রমুখ।