ডেস্করিপোর্ট আজ দক্ষিণ বঙ্গের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন শিক্ষাবিদ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কাওছারী এর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী।ক্ষণজন্মা এই মানুষটি ১৯৬১ সালের পহেলা মার্চ পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।তার পিতার নাম কদম আলী হাওলাদার।মাতার নাম জুম্বিলা খাতুন।
শৈশব কালেই তিনি মাকে হারান।পরবর্তীতে নানা রকম চড়াই-উতরাই পারিয়ে ১৯৭২ সালে দাখিল,১৯৭৪ সালে আলিম,১৯৭৬ সালে ফাযিল ও ১৯৭৮ সালে দেশের অন্যতম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ছারছীনা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস)বিভাগে পাস করেন।তিনি ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম পাচলাইশ ওয়াজেদিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষগতা শুরু করেন।এ সময় তিনি দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি ফিকাহ,তাফসীর ও আদিব বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।
মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কাওছারী বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখেছেন।তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন জামিয়াতুল মোদাররেসীন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নে ১৯৮৪ সালে চাঁদপাশা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও বকশিরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা দুটি প্রতিষ্ঠা করেন।পিতা-মাতার আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত এতিম শিশুদের জন্য ১৯৮৪ সালে চাঁদপাশা ইসলামিয়া এতিমখানা নামে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
একই সাথে তার নিজ বাড়ী পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে কেশবপুর আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসা,কেশবপুর ইসলামিয়া শিশু সদন ও কেশবপুর ইসলামিয়া পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠান করেছেন।সমাজ সেবা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ও কাজী ছিলেন।
তিনি পটুয়াখালীতে মসজিদ,রাস্তা নির্মান ও পোল নির্মান সহ নানা রকম সামাজিক কার্যক্রম করেছেন।নিজ এলাকার সাধারন মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর কেশবপুর গ্রামে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মান করার জন্য জমিও ক্রয় করেছিলেন।(যার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে)।তার সেই স্বপ্ন পুরন হওয়ার আগেই কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০০৯ সালের ৭ মে ঢাকা কাকরাইল ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।(ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যু কালে তিনি ১ স্ত্রী ৪ পুত্র ও ৩ কন্যা সহ অসংখ্য গুনাগ্রহী রেখে যান।
আজ তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।