ডেস্করিপোর্ট আসামির সঙ্গে সেলফি তোলায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল হককে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা (ক্লোজড) হয়েছে। পাশাপাশি থানাহাজতে আসামিদের ছবি ফেসবুকে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোমবার (১৫ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল।
তিনি বলেন, ‘আসামির সঙ্গে সেলফি তোলার ছবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে এসআই সাইদুলকে ক্লোজ করা হয়েছে। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ছবির বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’
থানা থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ছবি তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কেউ অবগত ছিলেন কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘রাতে কাজের চাপের মধ্যেই ছিলাম আমি। তবে এখন যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাই কারও দুর্বলতা থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বাশেরহাট খোলা এলাকা থেকে নৌকার প্রধান কার্যালয়ে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের তিন সমর্থকের পথরোধ করেন মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইচ আহমেদ মান্না ও তার অনুসারীরা। মান্না তাদের পিস্তল ঠেকান ও আর অনুসারীরা বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন।
হামলায় আহতরা হলেন নৌকার কর্মী হালিম, মনা ও জাহিদুল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আহত মনা রাতেই বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রইচ আহমেদ মান্নাসহ ২১ জন নামধারী ও অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে কাউনিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই কাউনিয়া থানাপুলিশ গভীর রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মান্নাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি মান্নার সঙ্গে হাসি দিয়ে সেলফি তোলেন এসআই সাইদুল হক।
পরে সকালে র্যাব আরও তিনজনকে আটক করে কাউনিয়া থানায় সোপর্দ করে। এ ১৩ জনকেই মনার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।