বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:৩৬
শিরোনাম :
১০ টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় ফের অপ-প্রচারের শিকার বরিশাল বিআরটিসির ম্যানেজার জুলফিকার! সেবা ও নিরাপত্তায় সজাগ বরিশাল ল্যাবএইড, চুরির সময় আটক নারীকে পুলিশে সোপর্দ এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেল এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বরিশাল সিটি নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন শিকদার! বরিশাল আদালত চত্বরের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে‘সেবা দিবস’পালিত বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিলেন আমান আযমী

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে বরখাস্তের আদেশ ‘প্রমার্জনা’ করে এর পরিবর্তে ভূতাপেক্ষভাবে ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ প্রদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমি ৫ম বিএমএ (বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি) লং কোর্সের অফিসার হিসেবে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করি। আমি কখনো আত্মপ্রচার পছন্দ করিনা। কিন্তু, এখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে একান্ত নিরুপায় হয়েই দেশবাসীর কাছে কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই।

কমিশনপ্রাপ্তির সময় সর্ব বিষয়ে সেরা চৌকষ ক্যাডেট হিসেবে আমি “সোর্ড অব অনার”, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী পরীক্ষায় কলা বিভাগ থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১ম শ্রেনীতে ১ম স্থান অধিকার করে “স্বর্ণপদক” এবং রণকৌশলে সেরা নৈপূণ প্রদর্শনের জন্য আমি “ট্যাকটিক্স প্ল্যাক” অর্জন করি। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সচিত্র মুখপত্র “সেনানী” এর জানুয়ারি ১৯৮২ সংখ্যার ৭ ও ৮ নং পৃষ্ঠায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের ৮ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে, “তিনি [প্রেসিডেন্ট এরশাদ] সামরিক একাডেমির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মেধায় উত্তীর্ণ সেরা চৌকষ ক্যাডেট ব্যাটালিয়ান সিনিয়ার আন্ডার অফিসার আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে সন্মাসূচক তরবারী ও স্বর্ণপদক প্রদান করেন।

তারিখ ভোরে আমার বাসায় ফিরে আসি। আমার এই বিবৃতির মূল উদ্দেশ্য শিরোনাম এ লেখা আছে। প্রসঙ্গক্রমে কিছু কথা বলতে হলো।

চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন, ২৪ জুন ২০০৯ তারিখে আমাকে বরখাস্ত করা ন্যক্কারজনক আদেশ বাতিল করে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এক সরকারি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়, যা সেনাসদর কতৃক ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আমাকে অবহিত করা হয়। একই প্রজ্ঞাপণের দ্বারা ২৪ জুন ২০০৯ তারিখ হতে আমাকে অকালীন বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করে আমার অবসরের আর্থিক সুবিধাসহ অন্যান্য সকল সুবিধাদি প্রদান করা হয়। আমার উপর যেই সীমাহীন যুলুম করা হয়েছে তার কোন আর্থিক বা অন্য কোন প্রতিদান কোনদিনও সম্ভব নয়। আমার বৃদ্ধা, বিধবা ও অসুস্থ অসহায় মা প্রায় তিন বছর আমার শোকে কাঁদতে কাঁদতে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। পৃথিবীর সকল সম্পদ দিয়েও কি আমার মাকে ফিরিয়ে আনা যাবে? যা হোক, বিলম্বে হলেও আমার অবসরের এই আদেশ আমার উপর যে সীমাহীন নির্যাতন ফ্যাসিবাদ সরকার করেছে তার প্রতিদানের একটি অংশ (যতটুকুই হোক) হিসেবে বিবেচ্য।

আমার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে আমাকে অবসর প্রদানের এই আদেশ প্রদানের জন্য আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানকে আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এর জন্য মহান আল্লাহ্‌ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এই দোয়া করি।