বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৬:৫৭
শিরোনাম :
বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ,বিচারপ্রার্থীদের মাঝে আতঙ্ক শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ বরিশাল বোর্ডে ১৫ টি বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস, ৫ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল এসএসসিতে বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৬০.৩৫ শতাংশ ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারাবাজার দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, আহত ৩ মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বরিশালে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোম এর শুভ উদ্বোধন শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ঘোষণা বিএম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের হামলা-সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট ।। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। সরকার এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বুধবার (১৩ মে) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আয়োজনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী সেবাকেন্দ্র স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয় কিন্তু বাংলাদেশে অনিবার্যকারণবশত আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৩.৯ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। সমাজ থেকে পিছিয়ে থাকা এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পশ্চাৎপদ রেখে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের মেধার যোগ্যতা দিয়ে পূর্ণ মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে।

তারা সমাজের বোঝা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এদের এক একজনের মধ্যে এক এক রকমের মেধা রয়েছে। যার কারণে অলিম্পিকে ক্রীড়া নৈপুণ্যে অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অটিজম সম্পন্ন ব্যক্তিদের দূরে ঠেলে না রেখে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের অধিকার, সুরক্ষা ও সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সমন্বিত ও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ বছরের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান ‘ আমাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক মানুষই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ করে দেওয়া।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় অটিজম কর্নার স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের কল্যাণ বাস্তবায়নে কোনো শিশু বা নারী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ধৈর্য ও ভালোবাসা ধরে রাখুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। এককালীন চিকিৎসা অনুদান, থেরাপি সেবা এবং শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে ট্রাস্ট কাজ করছে। আমরা আরও বেশি সংখ্যক মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করব, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়।

মন্ত্রী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন- স্কুল, মসজিদ-মন্দির, সমাজে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করব।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অটিজম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।