এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া ।। দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পরিবহন সাকুরা!দেখলেই জনমনে আতঙ্ক সবার প্রশ্ন আবার কে হবে বাবা হারা, কে হবে সন্তান হারা,কে হবে মা হরা, কে হবে ভাই হারা,কে হবে বোন হারা। স্বৈরাচারী শাসন আমল থেকে শুরু করে সব আমলেই ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে চলছে সাকুরা পরিবহনের কার্যক্রম। সবচেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হলেও বিচারের মুখা মুখি হতে হয় না সাকুরা পরিবহনের কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ।সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক, পথচারী,শিক্ষক,ছাত্র, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এন এস আই করো জীবনেরই মূল্য নেই সাকুরা পরিবহনের কাছে। সাকুরা পরিবহনের মতো দ্রুতগামী বাসগুলোর অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতি, ওভারটেক করার প্রবণতা এবং চালকদের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিচারের বানী নিরবে কাদে ক্ষমতা ও অর্থের কাছে। ছাত্র জনতার অভ্যুথানের পরেও স্বৈরাচারী শাষকের
দোসর সাকুরা পরিবহনের
কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসন আমলে বিএনপি ও জামায়াত তথা বিরোধী দলের সমাবেশের সময় গাড়ি বন্ধ রেখে সমাবেশে আসতে বাধা প্রধান কারি পরিবহনের মধ্যে সাকুরা পরিবহন অন্যতম। আবার হরতাল দিলে রাস্তায় যে কয়টি পরিবহনের গাড়ি চলত তার মধ্যে অন্যতম সাকুরা পরিবহন। কারন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগাযোগ ও সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রীর আস্থাভাজন সাকুরা পরিবহনের
কোম্পানির এমডি ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আরও মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে হয়নি কোন হত্যা মামলা। এছাড়াও দুদকেও হয়নি কোন মামলা,অভিযোগ গ্রহণ। সব মিলিয়ে ক্ষমতা আর অর্থ থাকলেই সব কিছু থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় বলে মত সুশীল সমাজের।
সাকুরা পরিবহনের দুর্ঘটনার কারণসমূহ
• বেপরোয়া গতি: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতায় চালকরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান।
• ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক: সামনের গাড়িকে পেছনে ফেলে সামনে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
• চালক ও সহকারীদের দায়িত্বহীনতা: অনেক সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই হেলপার বা অদক্ষ চালকদের হাতে বাস তুলে দেওয়া হয়।
সাকুরা পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনার (সাত বছরের চিত্র ):
সাকুরা পরিবহনের (Sakura Paribahan) বাস সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক কিছু উল্লেখযোগ্য সড়ক দুর্ঘটনা ও ঘটনা নিচে দেওয়া হলো:
• সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মাদারীপুরে চলন্ত বাসে আগুন): ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের পাথুরিয়ারপাড় এলাকায় সাকুরা পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে এক যাত্রী গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
• আগস্ট ২০২৬ (তেলবাহী লরির সঙ্গে সংঘর্ষ): ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সাকুরা পরিবহন ও একটি তেলবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
• জুন ২০২৬ (পটুয়াখালীতে ইজিবাইক দুর্ঘটনা): পটুয়াখালীতে সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় একটি ইজিবাইক লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং ১ জনের মৃত্যু হয়।
• মার্চ ২০২৬ (বাগা ফেরি টার্মিনাল): পটুয়াখালীর বাগা ফেরি টার্মিনালে সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের পেছনের অংশ ফেরি থেকে ঝুলে থাকার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।
• এপ্রিল ২০২৬ (মাদারীপুরে বাসে আগুন): মাদারীপুরের কালকিনি ও দাশর উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সাকুরা পরিবহনের বাসে আগুন লাগার ঘটনায় ১ জন নিহত হন।
২০২৫ সালে সাকুরা পরিবহনের বেশ কয়েকটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, উল্লেখযোগ্য কিছু দুর্ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
• নভেম্বর ২০২৫ (ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বাস উল্টে ১৫ জন আহত): ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।
• নভেম্বর ২০২৫ (গৌরনদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা): ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বরিশালের গৌরনদীতে সাকুরা পরিবহনের একটি বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে কমপক্ষে ১২ জন যাত্রী আহত হন।
• আগস্ট ২০২৫ (আমতলীতে বাসচাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত): ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর চুনখালী সেতু সংলগ্ন এলাকায় সাকুরা পরিবহনের একটি বাস শুভ হাওলাদার (৪৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
• জানুয়ারি ২০২৫ (নেছারাবাদে নারী যাত্রী নিহত): ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) যাওয়ার পথে চালকের বেপরোয়া গতির কারণে সাকুরা পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশের মাঠে ছিটকে পড়ে। এতে ফরিদা বেগম নামের এক নারী যাত্রী নিহত হন এবং ১০-১২ জন আহত হন।
২০২৪ সালে সাকুরা পরিবহনের (Sakura Paribahan) বাস সংশ্লিষ্ট প্রধান দুটি সড়ক দুর্ঘটনা নিচে উল্লেখ করা হলো:
• ডিসেম্বর ২০২৪ (মুন্সীগঞ্জ): ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সকালে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার নিমতলী শিকারপুর আন্ডারপাসের কাছে ১০টি যানবাহনের মধ্যে একটি চেইন-রিয়্যাকশন দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সাকুরা পরিবহনের একটি বাস একটি কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দেয় এবং পরবর্তীতে পেছনের অন্যান্য গাড়িগুলোও একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় ফরহাদ হোসেন নামের এক যাত্রী গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ।
• আগস্ট ২০২৪ (গোপালগঞ্জ): ১ আগস্ট তারিখে দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ডোমরাকান্দি নামক স্থানে কালবেলা সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই ভাই ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন ।
২০২৩ সালে সাকুরা পরিবহনের (Sakura Paribahan) বাস সংশ্লিষ্ট প্রধান দুটি সড়ক দুর্ঘটনা নিচে উল্লেখ করা হলো:
• ডিসেম্বর ২০২৩ (উজিরপুর, বরিশাল): ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলির (থ্রি-হুইলার) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অতিরিক্ত কুয়াশা এবং তীব্র গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রলিচালক সোহরাব কবিরাজ (৩৮) ও তার সহযোগী রুবেল হাওলাদার (৪০) নিহত হন এবং বাসের অন্তত ৭ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন।
• নভেম্বর ২০২৩ (মাদারীপুর): ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার সমাদ্দার নামক স্থানে ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । এই দুর্ঘটনায় মলিনা নামের এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।
২০২২ সালে সাকুরা পরিবহনের কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। নিচে ২০২২ সালের প্রধান দুর্ঘটনাগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
নভেম্বর ২০২২ (ভাঙ্গায় গাছে ধাক্কা, শিশুসহ ৪ জন নিহত): ৬ নভেম্বর ২০২২ তারিখে গভীর রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মাধবপুর এলাকায় সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা দেয় । এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ৪ জন যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন ।
জানুয়ারি ২০২২ (নথুল্লাবাদে ৩টি অটোরিকশাকে চাপা): ২৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে রাত সোয়া ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয় ।এতে অটোরিকশাগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন ।
২০২১ সালেও সাকুরা পরিবহনের বাস বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। সংবাদপত্র ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই বছরের উল্লেখযোগ্য কিছু দুর্ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
• ডিসেম্বর ২০২১ (মাদারীপুরে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত): ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর আঞ্চলিক বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকা থেকে আসা সাকুরা পরিবহনের একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় । এতে ইসমাইল হোসেন (৫১) নামের এক আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাসের অন্তত ছয় যাত্রী আহত হন।
• ফেব্রুয়ারি ২০২১ (বরিশালে সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা নিহত): ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সাত মাইল এলাকায় নথুল্লাবাদ থেকে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয় । এতে মোটরসাইকেল চালক এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (NSI) সাবেক কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
• মার্চ ২০২১ (পটুয়াখালীতে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত): ১৪ মার্চ ২০২১ তারিখে পটুয়াখালী সদর উপজেলার হাজিখালী এলাকায় সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে । এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত হন ।
(উল্লেখ্য, ২০২১ সালে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের পাঁচদোনা এলাকার একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় সাকুরা পরিবহনের নামানুসারে ‘সাকুরা মোড়’ হিসেবে পরিচিতি পায়, যা সে বছর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।
২০২০ সালেও সাকুরা পরিবহনের বাস বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল। গণমাধ্যম ও হাইওয়ে পুলিশের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের উল্লেখযোগ্য কিছু দুর্ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
• আগস্ট ২০২০ (ধামরাইয়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন নিহত): ১৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের শ্রীরামপুর এলাকায় পাটুরিয়াগামী সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
• ডিসেম্বর ২০২০ (ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষ): ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশা ও বেপরোয়া গতির কারণে সাকুরা পরিবহনসহ ৪টি যাত্রীবাহী বাসের চেইন সংঘর্ষ ঘটে। নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে সাকুরা পরিবহনের বাসটি এসে সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এই বহুযান সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।
• জানুয়ারি ২০২০ (ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া): ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বিকেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায় । এই দুর্ঘটনায় ১ জন যাত্রী নিহত হন এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
অন্য দিকে জানায়, সম্পদ গোপন রেখে শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি দিয়ে দুর্নীতি করেছন! যে যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলেই মুখোশ পরে বতর্মানেও
বিএনপির মুখোশ পরে দুদকের নজর এড়ানোর ফন্দি করছেন সাকুরা পরিবহনের কোম্পানির এমডি ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
তার নিজ এলাকা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত ছিলেন তার পরিবার।
তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য। তিনি নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন।বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে। একথা গুলো তাদের নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বলেন জানান তারা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাচ্ছু বলেন,সাকুরা পরিবহনের বাস বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। এভাবে যদি অন্য কোন পরিবহন কতৃক এমন প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতো তা হলে সরকার সেই পরিবহনে লাইসেন্স বাতিল করে দিতেন। যেটা সাকুরার বেলায় হয়নি। অর্থ আর ক্ষমতার কাছে সব জিম্মি। বতর্মান সরকারের উচিত প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং বিচারের আওতায় আনা। সে যত বড়ই ক্ষমতাধর হউক কেন।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাকুরা পরিবহনের বাস বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। ক্ষমতা ও অর্থ দিয়ে পার পেয়ে যায়।রাজস্ব ফাকি দিয়ে দুর্নীতি করেছন! এমন অভিযোগ রয়েছে। তাই ছোট বড় নয় ! দুর্নীতি তো দুর্নীতিই। সেটি যেমনই হোক। দুদক আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুদকের উচিৎ সাকুরা পরিবহনের কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। তাহলে দুর্নীতিবাজদের মুখ থুবড়ে পরবে। যদি সকল দুর্নীতি দুদক অনুসন্ধান করতে পারতো তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসত। সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক বিচার হলে সড়ক দুঘটনা অনেক অংশেই কমে যেত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান (দুদক)
বলেন,রাজস্ব ফাকি দিয়ে দুর্নীতি করেছন! এমন অভিযোগ যদি পাই সাকুরা পরিবহনের কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাহলে সেটা তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যারাই অপরাধ করুক না কেন আমাদের অনুসন্ধানে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয়।তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং প্রয়োজনীয় যত ব্যবস্থা আছে তা নেব। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাকুরা পরিবহনের পরিচালক খলিলুর রহমানের মুঠোফোনে বার বার কল দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি ।