অনলাইন ডেস্ক আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ। রোববার তালেবানের হাতে শহরটির পতনের আগেই অনেকে দেশটি ছেড়ে যান। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষে সায়গন থেকে যেভাবে মার্কিন কূটনীতিকদের সরানো হয়েছিল ঠিক সেভাবেই এদিন কাবুলে মার্কিন দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয় দেশটির কূটনীতিকদের।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট চিনুক এবং দ্রুতগতির ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারে মার্কিন দূতাবাসের স্টাফরা চলে যাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তাদের কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তারা কত সময় থাকবেন তা বলা হচ্ছে না। বিমানবন্দরটি এখন বিভিন্ন দেশের লোকে পরিপূর্ণ, যেখানে কূটনীতিক, ঠিকাদার এবং বেসামরিক লোক, সবাই কাবুল ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
রোববার দুপুরের দিকে মার্কিন দূতাবাসের ছাদ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। দূতাবাসকর্মীরা সিআইএর গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পুড়িয়ে ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় দূতাবাসে মার্কিন পতাকা নিচু করে উড়তে দেখা যায়, যা দূতাবাস বন্ধের ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নিয়ে ৬০০ সেনা পাঠিয়েছে দেশটি। সকাল থেকে তারা নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে কাজ করেন। এছাড়া ডেনমার্ক, জার্মানি ও নরওয়েও নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
রোববার তালেবান বাহিনী কাবুলে ঢুকতে শুরু করলে সেখানে অবস্থান করা নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় ভারত। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, দুপুরের একটু আগে ইন্ডিয়ার একটি বিমান কাবুলে আটকে পড়া কর্মীদের আনতে যায়। ভারত থেকে আফগানিস্তানে পৌঁছাতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিন্তু আফগানিস্তানে পৌঁছালেও বিমানটি অবতরণের অনুমতি পায় না। কারণ ততক্ষণ তালেবান যোদ্ধারা কাবুলে ঢুকতে শুরু করেছে। ভারতের বিমানটি প্রায় ১ ঘণ্টা আকাশে উড়তে থাকে। পাইলট প্লেনের রাডার অফ করে দেন যাতে এটি শনাক্ত করে কেউ হামলা চালাতে না পারে। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা পর চাপা উত্তেজনার মধ্যে বিমানটি কাবুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
কাবুল দখলের আগে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর মাজার-ই-শরিফ দখলে নিয়েছে তালেবান। এটি আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। দেশটির বালখ প্রদেশের রাজধানী এটি। প্রেসিডেন্ট ঘানি সফর করার কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি আফগান সরকারি বাহিনীর হাতছাড়া হলো। এর আগে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদের দখল নেয় তালেবান। কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবান শহরটির দখল নিতে সক্ষম হয়। জালালাবাদ দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টির নিয়ন্ত্রণ এখন তালেবানের হাতে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়দার নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট সেখানে যৌথ অভিযান চালায়, যার মাধ্যমে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে।