ডেস্ক রিপোর্ট ।। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার জন মৃত্যুবরণ করে।বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশেও টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্তের হার অনেক বেশী।টাইফয়েড জ্বরথেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী আগামী ১২ অক্টোবর-২০২৫ থেকে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বরিশাল সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা.এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী।
সিভিল সার্জন ডা.এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী জানান, ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশু এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেনি সমমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে।এবছর বরিশাল জেলায় মোট ৬ লাখ ১ হাজার ১২৫ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে।এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন স্কুলের শিশু এবং ২ লাখ ৪ হাজার ৭৫৫ জন কমিউনিটির শিশু।
এ সময় তিনি আরো জানান,টাইফয়েড জ্বর স্যালমোনেলা টাইফি (S. Typhi) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে আর্থিক ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আরও আশংকার বিষয় হলো টাইফয়েড রোগীর চিকিৎসায় যে সকল এন্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টাইফয়েড জ্বর নিরাময়ে কাজ করছে না। ফলে ঔষধ প্রতিরোধী টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে টাইফয়েড টিকা এই মারাত্মক ঔষধ প্রতিরোধী টাইফয়েড জ্বরের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টাইফয়েড প্রধানত আক্রান্ত ব্যাক্তির মলের সংস্পর্শে আসা দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে বিস্তার ঘটে এবং অন্যান্যদের মাঝে সংক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জীবাণু একমাত্র মানুষের দেহেই অবস্থান করে দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এবং দূষিত পানি পানের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করতে পারে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।