ডেস্ক রিপোর্ট ।। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?
রোববার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।
বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।’
রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।
সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই–বা কেন? দামই–বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!’
স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?’
রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।