রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং, রাত ৮:০২
শিরোনাম :
প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কুয়েটে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আশ্বাস আইজিপির গুপ্ত ট্যাগ দিয়ে লন্ডনে পালানোর ইতিহাস ঢাকতে চাইছেন: অ্যাড. হেলাল বরিশালে ছাত্রদলের কমিটি : পদের আশায় ব্যাচেলর ডজনখানেক নেতা মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৬ সরকার সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আন্দোলন চলবে সংসদ ও রাজপথে:ডা.শফিকুর রহমান জনগণ চাইলে বাকেরগঞ্জ পৌরবাসীর খেদমতে প্রস্তুত ফিরোজ আলম লন্ডনের হোয়াইটচ‍্যাপেল ওয়ার্ডে ‘আস্থা ও পরিবর্তনের’ প্রতীক মিজানুর রহমান খান

বরিশালে ছাত্রদলের কমিটি : পদের আশায় ব্যাচেলর ডজনখানেক নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বিয়ে করার স্বাভাবিক বয়স পেরিয়েছে বহু আগেই। তারপরও ঘরে বউ আনেননি বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের ডজনখানেক নেতা। ৫ আগস্টের আগে অবশ্য বিয়ে করার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না তারা। মামলা-হামলার মুখে সবাইকে থাকতে হয়েছে আত্মগোপনে। শেখ হাসিনার পতনের পর সেই অবস্থা আর না থাকলেও এখন তারা বিয়ে করছেন না মূল্যায়ন পাওয়ার আশায়। খুব শিগগিরই জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে। তাই বিয়ের তকমা গায়ে লাগতে চান না তারা। কারণ এতে পদ-পদবি জুটবে না। তাইতো মুক্ত পরিবেশেও ব্যাচেলর হয়ে আছেন। আগামী কমিটিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার আশা তাদের।

২০১১ সালে গঠিত হয় বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি। টানা ৭ বছর এই কমিটি দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর থেকে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করছেন দুই কমিটির নেতারা। এখন কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তাই শুরু হয়েছে পদ-পদবি পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে মাঠে নেমেছেন জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের ১৪ জন নেতা। স্বাভাবিক বিয়ের বয়স পেরুনো এদের প্রায় সবাই এখনো ব্যাচেলর। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নানা পদে থাকা এই ১৪ জনের সবাই চাচ্ছেন সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদ। সে লক্ষ্যে চলছে তাদের লবিং-তদবির।

মহানগরীর পদ-পদবিতে আসার লড়াইয়ে থাকা ছাত্র নেতারা হলেন-মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান দুই সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক ও মুশফিকুর রহমান অভি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তাসনিম, সরকারি হাতেম আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন আবীর এবং বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস তালুকদার। জেলা কমিটির পদ পেতে যারা মাঠে আছেন তারা হলেন-জেলা ছাত্রদলের তিন সহসভাপতি তারেক আল ইমরান, নাইমুল হাসান সোহেল ও আসিফ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আল ইমরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ আকন, বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মৃধা। এদের মধ্যে ২০১৪ সালে এসএসসি পাশ করেছেন আহাদ হোসেন আবির। বাকি সবার এসএসসি পাশের বছর ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে। সেই হিসাবে সবার বর্তমান বয়স ৩৩ থেকে ৩৮ বছর। যেখানে সাধারণভাবে ২৮-৩০-এর মধ্যে বিয়ে করেন বাংলাদেশের তরুণরা সেখানে বউ ঘরে আনার সেই স্বাভাবিক বয়স বহু আগেই পেরিয়ে এসেছেন তারা। প্রায় সবাই অর্জন করেছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

পদ-পদবির আশায় বিয়ে না করার বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করেননি জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আলোচিত এই নেতারা। দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলনে থাকা আর সাংগঠনিক ধারাবাহিক সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে দাবি তাদের। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি পদের আশায় মাঠে থাকা তরিকুল ইসলাম তরিক বলেন, ‘২০১৮ সালে গঠিত হয়েছিল আগের কমিটি। ধারবাহিকতা থাকলে গত ৮ বছরে আরও অন্তত দুবার কমিটি হতো। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা তো রক্ষা করা যায়নি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন আর হামলা-মামলার কারণে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুরো সময়টা থাকতে হয়েছে লুকিয়ে-পালিয়ে কিংবা জেলে। ফলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুসরণ করাও সম্ভব হয়নি। আজ মুক্ত পরিবেশে তাই দলের কাছে সম্মানের আবদার জানিয়েছি।’

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী সোহেল রাঢ়ি বলেন, ‘স্কুল জীবন থেকে যে সংগঠন করে আজ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। সংগঠনের পেছনে জীবনের এখন পর্যন্ত পুরোটা সময় ব্যয় করেছি। যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছি হয় রাজপথে, নয়তো জেলে। মামলা খেয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি বনে-জঙ্গলে। দলের জন্য পড়ে না থাকলে হয়তো আমাদেরও আর সবারমতো ঘর-সংসার, চাকরি সবই হতো। কিন্তু আমরা অবিচল থেকেছি বিএনপির আদর্শে। আজ আপনারা অনেক কথাই বলতে পারেন, বলতে পারেন যে পদ-পদবির আশায় আমরা বিয়ে করিনি। কিন্তু একটু পেছন ফিরে দেখুন, ৫ আগস্টের আগে আমরা যে কঠিন সময় পার করেছি সেই সময়ে কোনো বাবা কি ভরসা করে তার মেয়েকে আমাদের হাতে দিতেন? তখন তো খুন আর গুম হওয়ার লিস্টে ছিলাম। এখন আশায় আছি দল আমাদের এই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই যে ত্যাগ, এটাই মাঠপর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ইতিহাস। ঘর-সংসার, পরিজন সব ফেলে এরা লড়েছেন ফ্যাসিস্ট হটাতে। আজ তারা মূল্যায়ন পাওয়ার অপেক্ষায়। এসব ত্যাগী পরীক্ষিত ছাত্র নেতাদের দল সঠিক মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অজানা কিছু নেই। গত ১৭ বছর কে কি করেছেন সব খবরই আছে তার কাছে। সে বিবেচনায় তিনি সবাইকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করি।’