মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং, বিকাল ৫:০৬
শিরোনাম :
বরিশালে বিধবা মাহফুজার জমি দখলে নিতে মরিয়া আরিফ,আল আমিন গং দুর্নীতি-অনিয়মে জর্জরিত বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ওএসডি! যদি জ্বালানির সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন: রুমিন ফারহানা চুক্তিতে না আসলে পুরো ইরান ধ্বংস করে দেওয়া হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প চুয়াডাঙ্গা জেলার নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যান পরিষদের কমিটি গঠন,ফুয়াদ সভাপতি, শামসুল হক সম্পাদক বাড়ল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম,অকটেন ১৪০ পেট্রোল ১৩৫ টাকা কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শক্ত: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে: পোপ লিও ভারতের আসাম থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু

বরিশালে বিধবা মাহফুজার জমি দখলে নিতে মরিয়া আরিফ,আল আমিন গং

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশাল নগরীতে প্রতিবন্ধী সেজে বিধবার জমি দখলে নিতে কৌশলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বগুড়া আলেকান্দা এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য আরিফ ও তার ভাই আল আমিন গংরা। এই দুষ্ট চক্রের সদস্যরা অল্প টাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরোপকারী সেজে কৌশলে জমি ও ঘর রক্ষণাবেক্ষণের নামে কেয়ারটেকার সেজে জাল কাগজ তৈরী করে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ ঘর মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও কেউ তাদের প্রতিবাদ করতে এলে তাকেও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘায়েল করায় সহসাই কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখান না। এদের হাতে প্রতারনার শিকার হয়ে এবার নিজের ক্রয় করা ৬ শতাংশ জমি হারাতে বসেছেন বগুড়া আলেকান্দা এলাকার আরেক বাসিন্দা, মাহফুজা বেগম।

ভুক্তভোগী বগুড়া আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা বেগম জানান, তার স্বামী মরহুম আকবর আলী বিগত ২০০৮ সালে আলেকান্দা মৌজার তেমাথা ২০ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন এস,এ ৯৭১ দাগের ছয় শতাংশ জমি ছাফ কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন।

এ খবর শুনে পার্শ্ববর্তী ঘরের ভাড়াটিয়া আরিফ ও তার ভাই আল আমিন গংরা জাল কাগজ তৈরী করে তাদের নিজেদের জমি দাবী করলে বিগত ২০১১ সালের ৬ ই জুন বাটোয়ারা মামলার চুড়ান্ত ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে আদালতের মাধ্যমে দখল বুঝিয়া পাওয়ার মামলা করিলে আদালত বিগত ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারী পুলিশের উপস্থিতিতে কলমী নকশার ছিটা দাগের সম্পত্তির ৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেন। পরে আমার স্বামী উক্ত সম্পতিতে ৪ টা ঘর উত্তোলন করলে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম।

ইদানিং আবার সেই পরাজিত দুষ্ট চক্রের সদস্য আরিফ ও তার ভাই আল আমিন গংরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা আমার স্বামীর ক্রয় করা সম্পত্তিকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবী করলে স্থানীয় গনমান্য ব্যাক্তিরা শালিস মিমাংসার জন্য এসে উভয়ের কাগজ পত্র দেখে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়ায় এবার ল্যাংড়া আরিফ ও তার ভাই আল আমিন গংরা শালিস কারকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

তারা আমার প্রতিবেশী ২০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও একজন শিক্ষকের সুনাম ক্ষুন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এই চক্রটি কখনো ভিক্ষুক, কখনো অসহায়, দুস্থ, আবার কখনো মাজারের খাদেম, ফকির ছদ্মবেশ ধারণ করে কম টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরে সেই বাসার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়ামের দায়েরকৃত বন্টন মামলায় বাদী আয়েশা খাতুন, বিবাদী রহম আলী গং সহ ৬৩ জন ওয়ারিশ জর্জ কোর্টে ছোলে করে দেয়ায় বিবাদীগনের কোন সম্পত্তি থাকে না। তারপরও তারা পৈতৃক সম্পত্তি দাবী করে পলো, কালাম, রোকন সহ স্থানীয় একাধিক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, আরিফ, তার ভাই আল আমিন গংদের উষ্কানি দিয়ে মদদ দিচ্ছেন প্রতিবেশী স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মোতাহার কাজীর ছেলে শহীদ কাজী, কাজল লতার ছেলে রানা, আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে সফি হাওলাদার সহ একাধিক অসাধু সংঘবদ্ধ চক্র।এ চক্রটি আবার বিভিন্ন উপায়ে বিরোধ মিমাংসা করে দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েও উভয় পক্ষকেই উস্কানি দিয়ে শান্তিপূর্ণ এলাকাটিতে অশান্তির দাবানল ছড়াচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।এই সংঘবদ্ধ দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বাচতে চক্রটিকে আইনের আওয়ায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

বর্তমানে আরিফ, তার ভাই আল আমিন গংদের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতে চাঁদাবাজি সহ সম্পদ লুন্ঠনের দুটি মামলা চলমান আছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার এস আই মাজেদ বলেন, বাদী মাহফুজা বেগমের দলিল ও রেকর্ড সব কিছুই আছে।তারপরেও আসামিরা জমিতে প্রবেশে বাঁধা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।মামলার এজাহার নামীয় ১ ও ২ নং আসামীকে আটক করে আদালতে প্রেরন করেছি।পরে তারা জামিন পেয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন আছে।

এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী আল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি জন্মগত ভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী।আদালতে উভয় পক্ষের মামলা চলমান আছে। আমাদের কাগজপত্র ঠিক থাকলে আমরা পাব। তাদের কাগজ পত্র ঠিক থাকলে তারা পাবে।