বৃহস্পতিবার, ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ৯:০৪
শিরোনাম :
বিনা টাকায় চাকরি পেলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৫৭ জন কর্মচারী জিম্মি নয়, রোগীদের আস্থার চিকিৎসক ডা. অমিতাভ সরকার! বৈদেশিক টাকায় গৌরনদীতে হারিছকে পূণঃপ্রতিষ্ঠিার করার মিশনে ক্যাডার বাহিনী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ট্যাব উপহার’ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড,গুম-নিপীড়নের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল শেখ হাসিনা: স্পিকার নানা আয়োজনে বরিশালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পদ্মা সেতুতে বাস উল্টে নারী-শিশুসহ আহত ৮ ডা. অমিতাভের কাছে তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সহ হাজারো রোগী জিম্মি, মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন

বিনা টাকায় চাকরি পেলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৫৭ জন কর্মচারী

ডেস্ক রিপোর্ট ।। কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাশক কার্যালয়ের ৫৭ জন কর্মচারী। কেবল মাত্র আবেদন প্রত্র বাবদ ৬০ টাকা ছাড়া কোন চাকরী প্রার্থীকে কোথাও টাকা পয়সা গুনতে ব হয়নি বলে দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো : খলিল আহমেদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০ তম গ্রেডে নবনিয়োগকৃতদের নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা এমন দাবী করেন।

বিনা তদবির ও কোন প্রকার অর্থ লেনদেন ছাড়া চাকরী পেয়ে আবগাপ্লুত হয়ে পরেন যোগদানকৃত এসব কর্মচারীরা। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি নিয়োগ প্রকৃয়া নিয়ে বিতর্ক, ব্যাপক আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের খবর প্রকাশ্যে এলেও বিতর্কের বাইরে ছিলো সদ্য ৫৭ জনের নিয়োগের বিষয়টি।

সূত্র জানায়, বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানান জটিলতায় নিয়োগ প্রকৃয়া সম্পন্ন করতে পারেন নি সংশ্লিষ্ঠরা। এমনকি ওই নিয়োগের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে ফিরিয়ে না দিয়ে তা আত্মসাতেরও অভিযোগ ওঠে ডিসির সাবেক সিএ মামুন ও তৎকালী পেশকারের বিরুদ্ধে। তবে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সব শেষে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলো এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৯ নভেম্বর। অনলাইনে আবদন গ্রহন করে সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২ টি পদের মধ্যে ৫৭ টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিভাগীয়র কমিশনার মো : খলিল আহমেদ।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়নি বলে জানিয়েছে চাকরী পাওয়া কর্মচারীরা। চাকরি প্রত্যাশীদের বড় একটি অংশের কাছে নিয়োগ মানেই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ—এমন বাস্তবতার মধ্যে কোনো টাকা ছাড়াই চাকরি পাওয়ার দাবির বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া জুলহাস হোসেন হাসি আক্তার মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ একাধিক কর্মচারী জানান বিগত দিনে 5 থেকে সাত বার তারা ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। মেধা থাকা সত্ত্বেও ওই সময় তাদের নিয়োগ হয়নি। তবে দীর্ঘদিন পরে হলেও কোন প্রকারের অর্থনৈতিক লেনদেন ও তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়ায় মহা খুশি। কর্মজীবনে সততার সাথে তারা মানুষের সেবা করতে চান বলেও জানান এসব নিয়োগ প্রাপ্তরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কারও কাছে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার আমার দেশকে বলেন কোন প্রকার তদবির ও অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়া যে চাকরি পাওয়া যায় সদ্য যোগদান কারীরাই তার বড় প্রমাণ। আর কেউ না জানুক যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারাই জানেন কিভাবে তাদের নিয়োগ হয়েছে।

এসব বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিল আহমেদ আমার দেশকে বলেন কোন প্রকার চাপের কাছে তিনি নত স্বীকার করেননি। তিনি বরিশালে যোগদান করার পর বরিশাল সহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ দিয়েছেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে তবে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন। তিনি বলেন ২৪ এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান যে কারণে হয়েছে তার সুফল পেয়েছেন সদ্যনীয় প্রাপ্তরা। তিনি আশাবাদী কর্মক্ষেত্রে তারা সততার সাথে কাজ করবেন।