এবি সিদ্দিকী ভূইঁয়া ।। বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরনের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রেস ব্রিফি বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন,তা তুলে ধারা হল,
বিআরটিসি সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান (২৮-০৫-২০১৫ হতে ১১-১০-২০২৬ পর্যন্ত ১৫ মাস ১৪ দিন) জনাব মোঃ আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) মহোদয়ের কর্মকালীন সময়ের দুর্নীতি চিত্র নিম্নরূপ:
১। মোঃ আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) এর কর্মকালীন সময়ে বিআরটিসিতে প্রায় ৪৭ কোটি টাকার স্পেয়ার পার্টস (যন্ত্রাংশ) ক্রয় করা হয়েছে। ২০% কমিশন হারে ৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা কমিশন গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ৪ কোটি। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজারগণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
২। মোঃ আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) এর কর্মকালীন সময়ে বিআরটিসিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার টায়ার ক্রয় করা হয়েছে। ১০% কমিশন হারে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা কমিশন গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ১ কোটি। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজারগণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৩। জনাব মোঃ আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) এর কর্মকালীন সময়ে বিআরটিসিতে প্রায় ১৪ কোটি টাকার লুব্রিকেন্ট ক্রয় করা হয়েছে। ১০% কমিশন হারে ১.৪ কোটি টাকা কমিশন গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ৫০ লক্ষ। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজারগণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৪। মোঃ আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) এর কর্মকালীন সময়ে ৩০ তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ে ৫৭ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ২৭ লক্ষ। বাকী ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ২০ লক্ষ। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজারগণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৫। বাণিজ্য মেলায় গাড়ি পরিচালনা করে প্রতিদিন পজ মেশিন এর সেললগ এর মাধ্যমে রাজস্ব অর্জন হিসাব না দেখিয়ে মেন্যুয়ালি হিসাব দেখানো হয়েছে। প্রতিদিন কম পক্ষে ১০টি পজ মেশিনের হিসাব না দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। এতে বাণিজ্য মেলায় ২০২৬ এ কমপক্ষে রাজস্ব অর্জন আত্মসাৎ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১.৫০ কোটি টাকা। যার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ১ কোটি। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজার (জোয়ারসাহারা ডিপোর তৎকালীন ম্যানেজার) এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৬। চেয়ারম্যান লতিফ মোল্লা এর রুমের রেনুভেশন এর কাজের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৬ লক্ষ টাকা। প্রকৃত পক্ষে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ২৬ লক্ষ টাকা। বাকি ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ২০ লক্ষ। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (নির্মাণ) এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৭। বিআরটিসিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ বাস বিভিন্ন রুটে পরিচালিত হয় এবং ৬০০ বাস স্টাফ বাস হিসেবে পরিচালিত হয়। রুটে পরিচালিত বাস হতে প্রতিদিন গড়ে প্রতি বাস হতে ৫০০ টাকা করে অবৈধ (চুঙ্গী) টাকা গ্রহণ করা হয়।
লতিফ মোল্লা এর কর্মকালীন ১৬ মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকা অবৈধ (চুঙ্গী) গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে লতিফ মোল্লা একা নিয়েছেন ৫ কোটি। বাকি টাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজারগণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্তরা গ্রহণ করেছেন।
৮। ০২টি ট্রাকে (ঢাকা ট্রাক ৯ লক্ষ ও চট্টগ্রাম ট্রাক ১১ লক্ষ) প্রতিমাসে লতিফ মোল্লা ২০ লক্ষ টাকা করে অবৈধ টাকা গ্রহণ করেছেন। উনার কর্মকালীন সময়ে ০২টি ট্রাক হতে ৩ কোটি টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করেছেন।
এদিকে জানাযায়,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকে বদলি করেছে সরকার। আর বদলির আদেশের কথা ছড়িয়ে পরলেই রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি অংশ। তারা প্রধান ফটক ও পকেট গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান।অভিযোগ, আব্দুল লতিফ মোল্লা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
ডিপো ও কর্মকর্তাদের বদলি, দপ্তর সাজসজ্জা, বাণিজ্যমেলা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তার বদলির আদেশ -সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।একই আদেশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আহমেদ তারিকুল ওমরকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েছিল বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।