শামীম আহমেদ প্রাণঘাতী কোভিড-১৯, করোনা ভাইরাস মোকাবেলার সামাজিক দুরুত্বের কারনে দেখা যাচ্ছে অনেকেই নিজে থেকেই সরে রয়েছেন। তাই সামাজিক দুরুত্ব নয় শারীরিক দুরুত্ব বজায় রেখে প্রশাসন সহ সকল দলের সমন্বিত হয়ে নগরীর খেটে খাওয়া দৈনিক আয়ের মানুষ সহ অসহায়,দুস্থ ও বস্তিবাশীদের পাশে দাড়াবার জন্য এক উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটি।
আজ(১৯ই) এপ্রিল সকাল ১১ টায় নগরীর ফকিরবাড়ি রোডস্থ মাতৃছায়া স্কুল সংলগ্ন বাসদ কার্যলয়ে শারীরিক দুরুত্ব বজায় রেখে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল জেলা কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইমনান হাবীব রুমনের সঞ্চলনায় উন্মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বরিশাল মেডিসিন বিশেষঞ্জ চিকিৎসক প্রফেসর এইচ.এম সরকার, বরিশাল জেলা বিএিনপি (দক্ষিণ) সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন,বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, মাক্সবাদী দল বরিশাল জেলা আহবায়ক সাইদুর রহমান,বরিশাল উদিচী সভাপতি সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন,বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বরিশাল শাখার সদস্য শেখ সুমন ও তরুন স্বোচ্ছাসেবী সংগঠন সদস্য কামরুন নাহার মোহনা।
এখানে উন্মুক্ত আলোচনা সভায় মেডিসিন বিশেষঞ্জ ডাঃ এইচ.এম সরকার বলেছেন আমাদের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে মানুষকে করোনা সম্পর্কে অবহিত করার মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন সৃষ্টি করার পাশাপশি তারা যেন শারীরিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলাচল করে।
একই সময় তিনি আরো বলেন লকডাউন করে বসে থাকলে চলবে না। কারা খাবার পাচ্ছেন না সেবিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের মাঝে সুষ্ট খাবার বন্টন করতে হবে। মনে রাখতে হবে দারিদ্রদের ক্ষুদা করোনার চেয়ে ভয়ংকর। ক্ষুদাত্ব ব্যাক্তিদের শাষন দিয়ে আটকে রাখা যাবে না। তাই সমন্বিতভাবে সকলকে এক হয়ে কাজ করলে এর কিছুটা সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
পাশাপাশি তিনি আরো বলেন কোনভাবেই রোগকে আড়াল করা যাবে না। যার যার যে সমস্যা আছে সেগুলো চিকিৎসকের কাছে পরিস্কারভাবে তুলে ধরার আহবান জানান।
বরিশাল জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন বলেন বর্তমান করোনা সংকটময়কালে জাতীয় প্রর্যায়ে থেকে শুরু জেলা,উপজেলা ও থানা প্রর্যায়ে সকলকে নিয়ে কমিটির মাধ্যমে এর সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। একক বা পৃথকভাবে কাজ করে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন।
ওয়াকার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু বলেন যতই মানুষকে গৃহবন্ধি করে রাখা হবে ততই খাদ্য সংকট দেখা দেবে। মানুষের পেটে ভাত না থাকলে সেতো রাস্তায় নামবে বেচে থাকার জন্য । এটা শুরুতেই প্রশাসনিকভাবে এই কার্যক্রম চালু করার প্রয়োজন ছিল।
তরুন সংগঠন লাল সবুজের সদস্য কামরুন নাহার মোহনা বলেন করোনার কারনে আকস্বিকভাবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার কারনে সেসকল প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা মালিক থেকে শুরু করে কারো কাছ থেকে কোন ধরনের আর্থিক ও খাদ্য সহযোগীতা পায়নি।