রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং, রাত ৮:৫১
শিরোনাম :
আগৈলঝাড়া থানায় হামলাঃ দুই সাংবাদিককে আসামী করায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্বেগ সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্নাতক পর্যন্ত নারীশিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ বিটিএমএ’র কমিটি গঠন :সভাপতি হুমায়ুন,সম্পাদক শাহিন, অর্থ সম্পাদক: মামুন বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ : সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক নিবেদিত যাত্রা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করায় ৪ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্

ভাঙনের মুখে কুড়িগ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে গত বছর মেরামত করা অংশের কয়েকটি স্থানে ধবস নেমেছে। বাঁধের ৩-৪ ফুট অংশ অবিশিষ্ট আছে। যে কোন মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পানি ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হবার পাশাপাশি ফসলহানি ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছেন নদী তীরের মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকির মুখে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা পরিদর্শন না করায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মনে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বাঁধটি রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরেজমিন জানা গেছে, গত দু’বছরের বন্যায় ধরলা নদীর তীরবর্তী সারোডোব ও বড়ভিটা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভেঙে বিস্তৃর্ন এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বাঁধ মেরামত করে কোনমতে চলাচল উপযোগী করা হয় বাঁধের উপর দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কুড়িগ্রাম-ফুলবাড়ী সড়কটি। গত বছর বাঁধের রাস্তার অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় বাকী অংশে বাঁশের পাইলিং দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে এই কাজ শুরু করে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা দিয়ে সহায়তা করে। তবে এতো কিছুর পরেও রক্ষা পাচ্ছেনা বাঁধটি। শুক্রবার সরেজমিন বাঁধটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে ৪টি স্পটে বালির বাঁধটি ধবসে গেছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী। অনেকেই আতংকে আছেন কখন ভাঙে বাঁধটি। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের ২শ ফুট উত্তরে কিছু বস্তায় বালু ভরাচ্ছে মজুররা। তবে পাউবোর কাউকে পাওয়া যায়নি।

সারডোব গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে হলোখানা, রাঙামাটি, চর কাগজিপাড়া, ভাঙামোড়, খোঁচাবাড়ি, চর বড়াইবাড়ি, লক্ষীকান্ত, দ: রাঙামটি, মন্ডলপাড়াসহ প্রায় ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হবে। একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল শালেত বলেন, ‘বাঁধ ভাঙি যাবার নাগছে, ওয়াবদার লোক দেইখপ্যারও আসিল না।’ বাঁধ ভাঙার আতংকে অনেকের নির্ঘম কাঠছে রাত। বাঁধের সংলগ্ন বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ‘চপুর আইত নিন্দ পাইরব্যার পাইনা।’ বাঁধ ভেঙে ফসলহানির পাশাপাশি বালু জমে আবাদী জমি অনাবাদী হবার আশঙ্কা করছে এলাকার মানুষ।

সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক ও ফিরোজ মিয়া জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় জমির উপর ব্যাপকহারে বালু পরে জমি অনাবাদী হয়ে যায়। এখনও অনেক জমি থেকে ৪-৫ ফুট বালুতে ঢেকে আছে। নতুন করে এবার প্লাবিত হলেও আবাদযোগ্য জমিই থাকবে কীনা সন্দেহ। হলোখানা গ্রামের কৃষক একরামুল ও আজিজুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে ফসল ডুবে যাবার পাশাপাশি পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ওঠার মতো উঁচু স্থানও নেই। এবার বাঁধটি ভেঙে গেলে তারা কোথায় যাবেন তা চিন্তিত।

ছাটকালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর জানান, গত দু বছরে তারা মানববন্ধন ও সমাবেশসহ অনেক দেন দরবার করলেও বাঁধ ও সড়ক মেরামত না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে।

হলোখানা ইউনিয়নের প্রাক্তন মেম্বার আশরাফ আলী জানান, গত বছর ভাঙন প্রতিরোধের জন্য এলাকার শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ নদীর পারে মানববন্ধন করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ সময় বাঁধটি রক্ষা করে যোগাযোগ সচল রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বারবার তাদের কাছে ধর্ণা দিলেও কোন লাভ হয়নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সারডোবের বাঁধ মেরামতে অস্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজ করতে ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা যায়নি। তবে বাঁধটি রক্ষায় এক হাজার বালির বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।