সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ ইং, সকাল ১০:০০
শিরোনাম :
আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক বরখাস্ত চীন সফর শেষে উপহার সামগ্রী ফেলে বিমানে ওঠেন মার্কিন দল মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ফেনীর ইমাম নৈশভোজে ট্রাম্পের খাবারের মেনুতে ছিল গরুর পাঁজরের মাংসসহ বেইজিং হাঁসের রোস্ট রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘাত-রক্তপাত সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩৯টি মার্কিন বিমান ধ্বংস পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি,নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপে ফেলে প্রতারণা, বিএনপি ও যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফুলবাড়ীতে নদীগর্ভে বিলীন স্কুল ভবন, মসজিদ, বসতভিটা, ফসলি জমি

মোস্তাফিজার রহমান(জাহাঙ্গীর)ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যা পরবর্তী ধরলা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বড়ভিটা ইউনিয়নের মেখলীর চর গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা।অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গিলছে স্কুল ভবন, মসজিদ, বসতভিটা, ফসলি জমি। ধরলার কড়াল গ্রাসে দিনেদিনে পাল্টে যাচ্ছে মেখলীর চর গ্রামের মানচিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- মেখলীর চর খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ও বিদ্যালয় সংলগ্ন খন্দকারপাড়া জামে মসজিদের ভবন ধরলায় গিলে খাচ্ছে। যেকোন মুহুর্তেই নদী গর্ভে বিলীন হবে বিদ্যালয়টির পুরো ভবন। ভাঙ্গন কবলিত গ্রামটির বাসিন্দা হারুন (৩৭) মতিয়ার (২৮) ছাইফুল(৩৫) মন্জুরুল(৩৮) কবির আহম্মেদ (২৭) বলেন- ধরলার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে আমরা চরম ভোগান্তিতে দিনযাপন করছি। এ পর্যন্ত আমাদের গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু আবাদি জমি প্রতিদিনই ধরলার পেটে চলে যাচ্ছে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার বিদ্যালয়টিও ধরলায় ভেঙ্গে নিল এখন বাচ্চাগুলোর কি হবে, কোথায় পড়বে তারা? বিদ্যুতের ৬টি খুঁটি নদীতে বিলীন হওয়ার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এখানকার প্রায় শতাধিক বাড়ী। ধরলার ভাঙ্গনে খন্দকার পাড়া জামে মসজিদটি নদীতে বিলীনের ফলে আমরা ১১০ ঘর মুসল্লি খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছি হুমকির মুখে মসজিদের অদুরের ঈদগাহ মাঠ।

এলাকাবাসী আবু বকর (৭৫) জলিফ উদ্দিন (৫০) হযরত আলী(৩৫) নুর ইসলাম (৩২) বাছের আলী(৭০) কফিল উদ্দিন (৪৬) কাদের(৬৮) বলেন, দীর্ঘদিনেও ভাঙ্গনরোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে আমরা আজ নিঃস্ব হচ্ছি।অনেকটা অভিযোগের সুরে তারা বলেন- বন্যাকালীন সময়ে ইউএনও,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এখানে ত্রাণ বিতরণের জন্য এসেছিলেন। তখনি আমরা নদীর ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাদেরকে মৌখিক ভাবে অনুরোধ করি। কিন্তু আজ অবধি তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। ওই সময়ে এখান থেকে নদী অনেকটা দুরেই ছিল।তখনি ব্যবস্থা নিলে আজ আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাতে হতো না। তারা আরো বলেন, কয়েকদিন আগে নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে যখন বিদ্যালয়টির খুব কাছাকাছি চলে আসে তা পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন। সেদিনও ভাঙ্গন রোধে দেওয়া হয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস। কিন্তু তাদের আশ্বাসের কোন কর্মকান্ডের ছিটেফোটাও আমরা আজ অবধি দেখিনি। তারা তো সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে এখানে আসে ছবি তুলতে আর আশ্বাসের ঝুলি নিয়ে। আসলে আমাদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই! বলেন তারা।

এমতাবস্থায় ধরলার কড়াল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, আমরা একাধিক বার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদুল হক বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার স্কুল ভবনটি রক্ষায় আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেছি।