সোমবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং, রাত ১:২৩
শিরোনাম :
দেশ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মানুষের হৃদয়ে অনাদিকাল বেঁচে থাকবেন আল্লামা সাঈদী: ডা. শফিকুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নতুন রণতরী, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের বিনা পারিশ্রমিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মুকিত স্যার যুক্তরাজ্যের নতুন নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’: নেতানিয়াহু ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান,দুদকের অভিযোগ পরিসমাপ্তি তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসায় দাখিলে শতভাগ পাস,জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন! বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ,বিচারপ্রার্থীদের মাঝে আতঙ্ক শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ বরিশাল বোর্ডে ১৫ টি বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস, ৫ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

মাদ্রাসাছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডেস্করিপোর্ট  বরগুনায় মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

এদিকে এ মামলায় অপর আসামি রাশিদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামের মাওলানা ইব্রাহীম খলিলের ছেলে মাওলানা সাইফুল ইসলাম। তিনি গুদিঘাটা দাখিল মাদ্রাসার শরীর চর্চার শিক্ষক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে তার খালি বাড়িতে ডেকে নেয়। বেলা সাড়ে ১১টায় আসামির বসতঘরের দোতলায় ছাত্রীকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ছাত্রীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ভিকটিমের বড় বোন ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় না দেখে খুঁজতে থাকে। এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বড় বোন জানতে পারে ভিকটিম সাইফুলের সঙ্গে তার বাড়িতে গেছে।

বড় বোন সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখে তার ছোট বোন রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদছে। এই ফাঁকে সাইফুল পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভিকটিমকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় একই দিন (২০ জানুয়ারি) সাহেবের হাওলা হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য বাবুল গাজী বাদী হয়ে বরগুনা থানায় মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তার বাবা মাওলানা ইব্রাহীম খলিল ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফারুক ফকির তদন্ত শেষে আসামি সাইফুলের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৯ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীর বাবা বলেন, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আর যেন কোনো শিক্ষক এ রকম অপরাধ না করে।

আসামি কোর্ট বারান্দায় বলেন, আমি নির্দোষ। উচ্চ আদালতে আপিল করব। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মামলা প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।