মঙ্গলবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ২:২৮
শিরোনাম :
দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পরিবহন সাকুরা,দেখলেই জনমনে আতঙ্ক ! আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ইসলামী আন্দোলন নেতার সাংগঠনিক সব পদ স্থগিত নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পাচ্ছে ১০ ইউনিট বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়মের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরনের শ্রমিক-কর্মচারীরা মাদ্রাসাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ, সাহায্য করবে সরকার ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা ‘যৌতুক’ নয়: হাইকোর্ট কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়: প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যাচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমজানে খাদ্য সরবরাহে সংকট হবে না, পর্যাপ্ত মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি থেকে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

বরিশালে সম্পত্তির লোভে বড় ভাইকে আট বছর শিকলবন্দি

শামীম আহমেদ  “ভাই আমি পাগল না। পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে আমার ভাই আমাকে শিকল দিয়ে আটকে রেখেছে। আমি শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি চাই। আট বছর ধরে আমার পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়না। বেশিরভাগ দিন আমার উপোস কাটে।

আগে বাম পায়ে শিকল ছিলো। সেখানে ক্ষত হওয়ায় এখন ডান পায়ে শিকল দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর আগে জমির খতিয়ান রেকর্ডের নামে দলিলে ছোট ভাই আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। শুধু সম্পত্তি নিজের নামে করতে ভাই আমাকে শিকলবন্দি করে রেখেছে। আমি শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি চাই।”

কথাগুলো বলছিলেন, শুধু পৈত্রিক সম্পত্তির লোভে ছোট ভাই কর্তৃক আট বছর ধরে শিকলবন্দি করে রাখা জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা (৩৬)। তিনি (তোতা) ওই গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের বড় ছেলে। তার ছোট ভাই অভিযুক্ত মানিক মিয়া রাংতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক। খবর পেয়ে রবিবার সন্ধ্যার পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা তোতার বাড়িতে গিয়ে শিকলবন্ধি থেকে মুক্ত করেছেন। সমাজ সেবা কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা বড়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজে পড়াশোনারত অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট হওয়ার জেরধরে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে ১০ বছর আগে স্ত্রী তাকে (তোতা) ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনার দুইবছর পর পাগল আখ্যায়িত করে পরিত্যক্ত একটি ঘরে তোতাকে শিকল বন্দি করে রাখা হয়।

তোতার ছোট ভাই মানিক মিয়া নিজে থাকার জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করলেও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন তোতাকে রাখা হয়েছে ছোট একটি পরিত্যক্ত ঘরে। সেখানে লোহার শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সাথে তালা দিয়ে তোতাকে আটকে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, তোতা মানসিকরোগে আক্রান্ত, তবে পাগল বলা যাবেনা। তার আচার-আচরণ একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই। উন্নত চিকিৎসা পেলে সে (তোতা) পুরোপুরি সুস্থ্য হতে পারেন। তবে তার ছোট ভাই মানিক মিয়া শুধু সম্পত্তির লোভে সুচিকিৎসা না করিয়ে তোতাকে পাগল হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার ছোট ভাই মানিক মিয়া বলেন, বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মানসিকরোগে ভুগছেন। বড় ভাই অচেনা কাউকে দেখলে তাকে মারধর করেন। এ কারণে তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে মানিক মিয়া বলেন, সরকারীভাবে জমি জরিপের পর খতিয়ান রেকর্ডের জন্য বড় ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিলো। জমি আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।