রবিবার, ৩রা জুলাই, ২০২২ ইং, দুপুর ১২:১৭

বন্যায় ডুবে গেছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বিদ্যুতের সাব স্টেশন

ডেস্করিপোর্ট  সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে। বন্যায় ডুবে গেছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সাব স্টেশনও। এর ফলে আলমপুর বিভাগীয় অফিস, বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, ডিআইজি অফিস, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সিলেটবাসী।

বুধবার (১৮ মে) সকালের ঝলমলে রোদে বন্যার্তদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এলেও দুপুর হতে না হতেই আবার বৃষ্টি। কৃষকেরা রোদের অভাবে কাটা ধান ও গরুর খাবার শুকানো নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।

পাহাড়ি ঢলে ভারতের বরাক নদীর ফুসে উঠে সিলেটের সুরমা, কুশিয়্রা সহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। বুধবার সকালে জকিগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রহিমপুর পাম্প হাউজের কাছে কুশিয়ারা নদীর তীরে ‘ক্রস ড্যাম’ ভেঙে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘এই পানি পাম্পের সাহয্যে রহিমপুর খাল দিয়ে বের করে দেওয়া গেলে শুস্ক মৌসুমে ফসলে সেচ দেওয়া যাবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড বুধবার বিকাল ৩টায় জানায়, কানাইঘাটে সুরমার পানি কিছুটা কমলেও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ভারতের বরাক নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জকিগঞ্জের অমলসিদ পয়েন্টে পানির চাপ খুব বেড়েছে। এতে সুরমা ও কুশিয়ারা পানি অনেক স্থানে বেড়েছে। অমলদি,সুরমা, শেওলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, বুধবার পর্যন্ত সিলেটের ১৭ টি উপজেলায় ২ হাজর ৩৭৯ হেক্টর বোরো, ১ হাজার ৩৪২ হেক্টর আউষ বীজতলা, ১ হাজার ৫৪ হেক্টর সবজি ও ৭০ হেক্টর বাদাম ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে অনেক স্থানে। নিত্যপণ্য জিনিসের স্বল্পতা ও দাম বেড়েছে।

বিদ্যুৎ নেই, সাব স্টেশনে পানি:
সিলেট দক্ষিণে বিদ্যুতের সুরমা সাব স্টেশনের যন্ত্রপাতি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে তিন দিন ধরে আলমপুর বিভাগীয় অফিস, বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, ডিআইজি অফিস, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। বিদ্যুৎ না থাকায় পাসপোর্ট অফিস থেকে ৩ শতাধিক নাগরিক ফিরে গেছেন।

সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির জানান, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।