ডেস্করিপোর্ট বরিশালে বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার সকল নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকদের প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মে) সকাল ১০ টায় বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার এর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল জেলা জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বলেন,বাল্য বিবাহ নারীর অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।এর ফল নারীর অগ্রযাত্রাও বাঁধাগ্রস্থ হয়।অল্প বয়সে বিবাহ মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি নবজাতকের মৃত্যুর আশংকাও তৈরী করে।প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদানের আশঙ্কা বেশি থাকে। অল্পবয়সে বিয়ের ফলে একটি মেয়ের পক্ষে অন্য একটি পরিবারের অনেক বিষয় সামাল দেয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে তারা অনেক শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে থাকে। অনেকসময় বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটে। ফলে পরবর্তীতে এসব মেয়ের বাবা-মায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, যা কোনো বাবা-মা কখনো কামনা করেন না। বিবাহবিচ্ছেদের ফলে মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বলেন,সর্বশেষ বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭’ পাস হয়। এই আইনেও মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর ও ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ বাল্যবিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এজন্য দুই বছরের কারাদণ্ড বা একলাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেয়া হলে একমাসের আটকাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তির যোগ্য হবে মর্মে এতে বিধান রয়েছে। বাল্যবিয়ের সাথে পিতা-মাতা বা অন্যরা জড়িত থাকলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা আছে, জরিমানার টাকা না দিলে আরও তিন মাসের জেল খাটার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। বাল্যবিয়ে নিবন্ধন করলে নিবন্ধকের লাইসেন্স বাতিল হবে। যিনি বিয়ে পড়াবেন কিংবা নিবন্ধন করবেন তারাও ছয় মাস থেকে দু বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এসময় তিনি আরও বলেন,পরিবার থেকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ এ সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরির চর্চা করতে হবে। বাল্যবিয়ে সামাজিকভাবেই প্রতিহত করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সোচ্চার হতে হবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর আন্তরিক প্রচেষ্টাই বাল্যবিয়ে মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
বরিশাল জেলা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সেক্রেটারী কাজী মাওলানা অলিউর রহমান এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষন কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা আব্দুর রব,সাবেক সভাপতি কাজী আনসার উদ্দিন সরদার,কাজী আমানুল্লাহ আমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মোঃ আঃ হালিম জমিদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মোঃ ইসমাইল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী এম, এ, কাদের,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নকীব মোঃ আনিছুর রহমান,সহসাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা ত্বহা বিন কাওছারী সহ বরিশাল জেলার সকল সাবরেজিস্ট্রার গন প্রমুখ।