ডেস্ক রিপোর্ট ।। ১৭ দফা দাবীতে অবহেলিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের ন্যায়সঙ্গত দাবী-দাওয়া নিয়ে মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ এর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর তোপখানা রোড শিশু কল্যাণ পরিষদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছাবের আহাম্মদ(কাজী সাব্বির)। সঞ্চালনা করেন মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সাধারন সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসান নোমান।সভাপতিত্ব করেন মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সভাপতি কাজী মাওঃ মোঃ মনিরুজ্জামান।

১৭ দফা দাবী সমুহ যথাক্রমে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে কামিল পাশ নির্ধারণ পূর্বক বিধান করা। বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে কনের এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে/অফিস কেন্দ্রীক বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে বিধান করা।নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের অবসরকালীন সময়ে সরকার কর্তৃক এককালীন ৩০ (ত্রিশ) লাখ টাকা অনুদান প্রদানে আইন প্রণয়ন করা। ইউনিয়ন হইতে পৌরসভা, পৌরসভার শ্রেণী-গ, খ, ক-তে উন্নীত হয়ে ক্যাটাগরি পরিবর্তন বা পৌরসভা হইতে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করিয়া বিকেন্দ্রীকরণ হলেও আইনে যাহাই থাকুক না কেন নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের নিয়োগকালীন অধিক্ষেত্র অবসরের সময় পর্যন্ত বহাল থাকিবে মর্মে বিধান করা।মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ১৯৭৫-এর বিধি ৫ এর ৩ এবং বিধিমালা ২০১৩’র এস.আর.ও নং-৩৩০-আইন/২০১৩ এর (৬ক) যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে পুত্র সন্তানকে নিয়োগের অগ্রাধিকারের বিধানকে সংশোধন করে পুত্র সন্তানকে সরাসরি নিয়োগে আইন প্রণয়ন করা।গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ বিধান জারী করে শূন্য অধিক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ১৯৭৫-এর বিধি ৩ এর আদলে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ উপদেষ্টা বোর্ডে ২ জন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার প্রতিনিধি রাখার বিধান করা।নতুন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য কোন পেশায় স্ব-বেতনে নিয়োজিত থাকিলে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনে অযোগ্য হইবেন মর্মে বিধান করা। নিকাহ্ রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা (৪৫) পয়তাল্লিশের পরিবর্তে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনূর্ধ্ব (৩২) বত্রিশ বছরের বিধান করা।

নিকাহ্ রেজিস্ট্রার সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বছরে অন্তত একবার বিভাগ ভিত্তিক দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রচলিত বিধান বাস্তবায়ন করা।বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন ফি প্রতি হাজারে ২০টাকা এবং তালাকের নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা নির্ধারণপূর্বক বিধান করা। বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে নির্ধারিত “ফি আদায় করিতে পারিবেন” এর ছলে সংশোধন পূর্বক “সরকারের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করিবেন” মর্মে বিধান করা। পাশাপাশি দেনমোহরের পরিমাণ যাহাই হোক না কেন বিবাহ নিবন্ধনের সর্বনিম্ন ফি ১৪০০/- টাকার কম হইবে না মর্মে বিধান করা।সরকারের রাষ্ট্রীয়/জাতীয় তথ্য সম্ভারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পদ অন্তর্ভুক্ত করা।কাজী ওবায়দুল হক বনাম রাষ্ট্র, (৫৫ ডি.এল.আর ও ৫১ ডি.এল.আর (১৯৯৯) ২৫) এর সিদ্ধান্ত মতে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদেরকে পাবলিক সার্ভেন্ট ঘোষণা দিয়ে ১৯৭৪-এর আইন সংশোধন করা।বৈবাহিক ও তালাক বিষয়ে নোটারী পাবলিকের হলফনামা বিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলী বেআইনী ঘোষণা করা এবং জাল/নকল নিকাহনামা সৃজনকারী এবং ভুয়া নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে বিধান করা।সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুরোধক্রমে পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত তালাকের নোটিশ প্রেরণে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারকে ক্ষমতা অর্পণ করে বিধান করা।২৯শে ডিসেম্বর ২০২২ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং-৩৭৭-আইন/২০২২ খ্রি. (১) বিধি ৬-এর উপ-বিধি (৮)-এর (ক) দফা এবং (২) বিধি ৭ এর উপ-বিধি (১) এর (ক) দফা বাতিল করে পূর্ববর্তী ২০০৯ এর বিধান পুনর্বহাল করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো.খাদেমুল ইসলাম, যুগা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিঠু, আবু মুসা, সালেহ আহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ফুয়াদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ,বি,এম বাকী বিল্লাহ, মহিউদ্দিন আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক আনোয়ারুল হক, প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন তাজিম, অর্থ সম্পাদক ফুয়াদুল ইসলাম ফুয়াদসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ উপস্থিত ছিলেন।