ডেস্ক রিপোর্ট ।। জুলাই বিপ্লব থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের অবদান সবথেকে বেশি, এই শ্রমিক ভাইদের পরিশ্রম ও সীমাহীন ত্যাগের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে কোন সরকার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ভুমিকা রাখেনি। জুলাই গনঅভ্যুত্থানে মাধ্যমে এই দেশের জনগণ একটা আশার আলো দেখলেও বর্তমান সরকারের তৎপরতায় সেটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এই শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আল্লাহর দেয়া পদ্ধতি ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহ্ পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে মালিক শ্রমিককের দ্বন্দ্ব নিরসন ও মানুষের মধ্যে যে পাহারসম বৈষম্য সেটা দুর করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জন্য কিছু কার্ড বিতরনের কথা বলছে। মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরনের ব্যাপক প্রচার দেখতেছি কিন্তু এই কার্ড আসলে কে পাচ্ছে প্রকৃত কৃষক ও শ্রমিক এই কার্ড পাচ্ছে কিনা তা নিয়ে জনমনে সংসয় রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ নেই সেখানে মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না, সরকারকে শ্রমজীবী মানুষের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবর বলেন, ১৮৮৬ সাল থেকে ১মে শ্রমিক দিবস পালন করলেও শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শ্রমিকগন যদি কাজ না করতো পৃথিবী এত সুন্দর হতনা।
কিছুদিন আগে আমাদের বরিশাল শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা সরানো বন্ধ করে দিল তখন গোটা শহর ময়লার ভাগারে পরিনত হয়, আবার সেই শ্রমিকগনই আবার ময়লা পরিস্কার করে শহর পরিছন্ন করে সুতরাং দেশের কাজে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। শ্রমিকগন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির বিনিময়ে রাস্তা ঘাট ইমারত নির্মাণ করে সেখানে ধনিক শ্রেণীর জায়গা হলেও শ্রমিকদের কোন অধিকার নেই। ইসলামী শ্রম নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বরিশাল মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মাদ জাফর ইকবালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান, শ্রমিক কল্যাণের সাবেক মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মাসুম, শ্রমিক নেতা সানউল্লাহ সাজিদ, মাহমুদুল হাসান কামাল, শফিকুল আলম ছালাম, জাকির হোসাইন, সেলিম হাওলাদার, মেহেদী হাসান, ইব্রাহীম খলিল মিরাজ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক র্যালি বের হয়ে সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, গির্জা মহল্লা প্রদক্ষিণ করে টাউন হল চত্বরে শেষ হয়।