বরগুনা প্রতিনিধি বরগুনা জেলার বেতাগীতে উপজেলাব্যাপী হঠাৎ করে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ শয্যার হাসপতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৭জন এর মধ্যে এই এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪জন এবং সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭৯জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৬জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ও ০২ মে মৃত ৪ জনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছেন এবং বাকি দুজন নিজ বাড়িতে ভিন্ন সময়ে মারা যান।
এদিকে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আতঙ্কে অনেকেই যখন হাসপাতাল বিমুখ ঠিক তখনই ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে করোনার মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ সময়ের ব্যবধানে মোট ২০৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসায় ১৭৯ জন ডাযরিয়া আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ২৬ জন রোগী । গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০ জন নতুন রোগী ডায়েরিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। এদের মধ্যে অধিকাংশই যুবক ও শিশু। হাসপাতালে স্যালাইনের সংকট না থাকলেও সমসাময়িক অবস্থায় চিকিৎসা দিতে দিতে ক্লান্ত বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.রবীন্দ্রনাথ সরকার এর কাছে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। মুক্ত জলাশয় থেকে দূষিত পানি কোননা কোনভাবে খাবারের পানির সাথে মিশে এমন রোগের সৃষ্টি হয়।এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন(পায়খানা) ব্যবহার না করার ফলেও এমন রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পানিবাহিত সমস্যার কারনে গত কয়েকদিন ধরে লোকজন ডায়েরিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খাবার স্যালইনের সংকট ছিলো না তবে কলেরা স্যালাইনের সংকট সল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হয়।