রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সকাল ৮:৩১
শিরোনাম :
বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর!

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড: চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ডেস্করিপোর্ট  ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নৌযানটির চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার নৌ আদালত।

রোববার বিকালে নৌ আদালতের বিচারক (স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) জয়নাব বেগম আসামি আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

নৌ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না রাখার দায়ে ঢাকা ও বরগুনা রোববার দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকায় নৌ আদালতে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান।

এদিনই লঞ্চের চার মালিক এবং দুইজন মাস্টার ও দুইজন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন নৌ আদালত। তাদের বিরুদ্ধে নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না রাখাসহ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর চারটি ধারা লংঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া বরগুনায় লঞ্চ মালিকের নাম উল্লে­খ করে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত শ্রমিককে আসামি করে মামলা করেছেন স্থানীয় বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকা নদী বন্দর (সদরঘাট) থেকে অভিযান-১০ লঞ্চটি ছেড়ে যায়। ঝালকাঠী থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে সুগন্ধা নদীতে আগুন লেগে লঞ্চটির ৪২ জন যাত্রী মারা গেছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ জন যাত্রী। ওই ঘটনার দুইদিন পর এ দুটি মামলা দায়ের করা হলো।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় আসামি লঞ্চের চার মালিকরা হলেন- মো. হামজালাল, মো. শামীম আহম্মেদ, মো. রাসেল আহাম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি।

মাস্টার ও ড্রাইভাররা হলেন- প্রথম শ্রেণির ইনচার্জ মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইনচার্জ মাস্টার মো. খলিলুর রহমান এবং প্রথম শ্রেণির ইনচার্জ ড্রাইভার মো. মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় শ্রেণির ড্রাইভার আবুল কালাম।

এজহারে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারা লংঘনের কথা উল্লে­খ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় লঞ্চের ৪২জন যাত্রীর মৃত্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও দণ্ডবিধির কোনো ধারা এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। এতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা, বিপজ্জনক মাল পরিবহণ, উপযুক্ত ও বৈধ সনদপত্র ছাড়া মাস্টার-ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া এবং অসদাচরণের কারণে জাহাজ বিপদাপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারা ভঙ্গের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নৌযানটিতে পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ জ্যাকেট, বয়া, বালির বক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিতভাবে অনেকগুলো ডিজেল বোঝাই ড্রাম, রান্নার জন্য সিলিন্ডারের গ্যাসের চুলা ছিল। এসব অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারার পরিপন্থী।