রবিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ ইং, রাত ৩:৪৩
শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয় বরিশালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ জাতীয় দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হিসেবে যোগ দিলেন আহমেদ বায়েজিদ মঠবাড়িয়ায় চোরের হামলায় অটো চালক জখম বরিশাল পেশাজীবী ফোরামের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিযান, অফিস ছেড়ে পালালেন কাজী আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুগত কারণে জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা বরিশালে শুরু হচ্ছে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, কোর্স সম্পন্ন হলেই নিয়োগ মানবতাবিরোধী অপরাধ: হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড: চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ডেস্করিপোর্ট  ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নৌযানটির চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার নৌ আদালত।

রোববার বিকালে নৌ আদালতের বিচারক (স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) জয়নাব বেগম আসামি আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

নৌ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না রাখার দায়ে ঢাকা ও বরগুনা রোববার দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকায় নৌ আদালতে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান।

এদিনই লঞ্চের চার মালিক এবং দুইজন মাস্টার ও দুইজন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন নৌ আদালত। তাদের বিরুদ্ধে নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না রাখাসহ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর চারটি ধারা লংঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া বরগুনায় লঞ্চ মালিকের নাম উল্লে­খ করে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত শ্রমিককে আসামি করে মামলা করেছেন স্থানীয় বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকা নদী বন্দর (সদরঘাট) থেকে অভিযান-১০ লঞ্চটি ছেড়ে যায়। ঝালকাঠী থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে সুগন্ধা নদীতে আগুন লেগে লঞ্চটির ৪২ জন যাত্রী মারা গেছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ জন যাত্রী। ওই ঘটনার দুইদিন পর এ দুটি মামলা দায়ের করা হলো।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় আসামি লঞ্চের চার মালিকরা হলেন- মো. হামজালাল, মো. শামীম আহম্মেদ, মো. রাসেল আহাম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি।

মাস্টার ও ড্রাইভাররা হলেন- প্রথম শ্রেণির ইনচার্জ মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইনচার্জ মাস্টার মো. খলিলুর রহমান এবং প্রথম শ্রেণির ইনচার্জ ড্রাইভার মো. মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় শ্রেণির ড্রাইভার আবুল কালাম।

এজহারে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারা লংঘনের কথা উল্লে­খ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় লঞ্চের ৪২জন যাত্রীর মৃত্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও দণ্ডবিধির কোনো ধারা এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। এতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা, বিপজ্জনক মাল পরিবহণ, উপযুক্ত ও বৈধ সনদপত্র ছাড়া মাস্টার-ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া এবং অসদাচরণের কারণে জাহাজ বিপদাপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারা ভঙ্গের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নৌযানটিতে পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ জ্যাকেট, বয়া, বালির বক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিতভাবে অনেকগুলো ডিজেল বোঝাই ড্রাম, রান্নার জন্য সিলিন্ডারের গ্যাসের চুলা ছিল। এসব অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারার পরিপন্থী।