অনলাইন ডেস্ক কবিরাজ মো. সুলতান আকন। যে ঘরে থাকেন তিনি তার বাইরে বিশাল সাইনবোর্ড। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা হাড় ভাঙ্গা চিকিৎসালয়। আছে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরও। ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে পারদর্শী তিনি।
বলতে গেলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রীতিমত হাসপাতাল বানিয়ে বসেছেন সুলতান আকন। রোগী ভর্তি করে তাদেরকে ডাক্তারের মতই চিকিৎসা দিতেন। ভেতরে যেতেই দেখা যায় স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার পরিবেশ। দিনের বেলায়ও লাইট না জ্বাললে চোখে পড়ে না কিছুই। হাত-পা ভাঙা ৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যান্ডেজ। তা থেকে বের হচ্ছে গোমূত্রের তীব্র গন্ধ।
এই চিত্র বরিশালের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভান্ডারিয়ায় কবিরাজ সুলতান আকনের আস্তানার। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। চিকিৎসাবিদ্যায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এমন চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
বছর পঁয়ত্রিশের এই যুবকের বাড়ি মূলত বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলায়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে সোমবার সকালে কবিরাজের আস্তানায় অভিযান চালায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব ৮) ও পিরোজপুর জেলা প্রশাসন।
ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম বলেন: ‘দীর্ঘদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে ভুয়া কবিরাজি করে আসছিলেন সুলতান আকন। এলাকার মানুষজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ‘এ অপচিকিৎসার বিষয়ে তারা জানতেন না।’
এ ধরনের অপচিকিৎসা থেকে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা।
মো. নাজমুল আলম জানান, কবিরাজ সুলতান আকন এক একজন রোগীকে চুক্তিভিত্তিতে ভর্তি করতেন। রোগের চিকিৎসা বাবদ প্রতি রোগীর কাছ থেকে নিতেন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তার চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ অভিনব। বিভিন্ন ধরনের গাছের শেকড় আর লতাপাতা গোমূত্রের সাথে মিশিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতেন রোগীর শরীরে।
তবে তার এ চিকিৎসায় এখনো কেউ আরোগ্য লাভ করেছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি কবিরাজ সুলতান আকন।
সোমবার পিরোজপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া কবিরাজ সুলতান আকনকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আর এ ধরণের কাজে তাকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে সহযোগিতার অপরাধে আব্দুল কাদের হাওলাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।