কামরুজ্জামান শাহীন,ভোলা প্রতিনিধি ভোলার বোরহানউদ্দিনে জিনের বাদশার আস্তানা থেকে ৩১৩ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ২৫ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১০ হাজার টাকা সহ ৯ মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বুধবার রাত পৌনে ১টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মুলাইপত্তন গ্রামের জিনের বাদশা মোকাম্মেল ভূঁইয়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার(৯জানুয়ারী) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের তাদের জেলহাজতে পাঠানো নিদের্শ দেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইসমাইল খান, মাকসুদুর রহমান ওরফে মকসুদ,সাদ্দাম হোসেন,কুঞ্জেরহাটের আবু তাহের ভূঁইয়ার ছেলে মোকাম্মেল ভূঁইয়া, তজুমদ্দিন উপজেলার তালুক গ্রামের আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে মো. সবুজ তালুকদার, একই উপজেলার কেয়ামুল্লা গ্র্রামের সেরাজল হকের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন, চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার চরমঙ্গল গ্রামের ছিদ্দিক বেপারীর ছেলে মো. কবির বেপারী, একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাইনুদ্দিন দালালের ছেলে মোশারেফ হোসেন মঞ্জু দালাল, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডেও ইউনুছ মিয়ার ছেলে মো. মামুন।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমানের নেতৃত্বে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মু. এনামুল হক,এসআই মোহাইমিনুল ইসলাম, এসআই মো. হেমায়েত উদ্দিনসহ পুলিশের একটি টিম বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের চকডোষ গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। ওই সময় মোকাম্মেল ভূঁইয়ার ঘর থেকে ৯ মাদক ব্যবসায়ীতে আটক করা হয়।
পরে তাদের শরীর তল্লাাশি করে ৩শ’ ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ আস্তনায় বসেই জিনের বাদশা সেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে প্রাথমিক তথ্য নেয়া হয়।
পরে ইমো বা ভিডিও কলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রোগমুক্তি, আদালতের মামলার রায় পক্ষে আনা, সংসারে শান্তি আনা, ব্যবসায় লাভবান হওয়া, প্রেমিক-প্রেমিকার মন পাওয়া, নিঃসন্তান নারীর সন্তালাভ করাসহ নানা বিষয়ে প্রলুব্ধ করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মু. এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জিরো টলারেন্সে মাদকবিরোধী অভিযান মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।