বানাড়ীপাড়া প্রতিনিধি বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার থানায় কর্মরত মো. জাহিদুল ইসলাম জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন । রবিবার সকালে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ দমন ও কল্যান সভায় ওয়ারেন্ট তামিল,সামাজিক কর্মকান্ড করে পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জল করা,মাদক উদ্ধার এবং সার্বিক আইন শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বিপিএম’র (বার) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাঈমুল ইসলাম, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রব হাওলাদার, সহকারী পুলিশ সুপার সুশান্ত কুমার ও মো. শামস, জেলার ১০ থানার ওসি এবং জেলা পুলিশের সকল অফিসার্স ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এএসআই জাহিদুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদ তুলে দেন পুলিশ সুপার। এই পুরস্কার আগামীতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন করেন এএসআই জাহিদুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত : বানারীপাড়া থানার উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ হোসেন একের পর এক মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পুলিশের ওপর অতীত মনোভাব পাল্টে দিয়ে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে জনমনে আস্থা ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।
পুলিশের ব্যতিক্রমধর্মী এ এএসআই বানারীপাড়া থানায় যোগদানের পর থেকে কখনও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বেহাল হয়ে পড়া রাস্ত-ঘাট নিজ হাতে সংস্কার ও পরিস্কার করে ব্যবহার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলে,কখনও অসহায় মানুষের পাশে অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে, কখনও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর লেখা-পড়ার দায়িত্ব নিয়ে,নিজের রেশন অসহায় বৃদ্ধজনকে দিয়ে ও পঙ্গু যুবককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে,আবার কখনও মাদক সেবীদের নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া সহ বিভিন্ন জনহিতকর কাজ করে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মানবতার দৃষ্টান স্থাপন করেছেন।
যে কাজ গুলো করার কথা ছিলো কোন জনপ্রতিনিধির সেই কাজ গুলো পুলিশের পোশাকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নিঃস্বার্থ ভাবে করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের ছোট্ট এই কর্মকর্তা।
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ৩ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজ ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুটি ‘অভিভাবক ছাউনী’ তৈরি করে দেন ।পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সন্তানদের পরীক্ষার হলে রেখে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে একটু শীতল ছাঁয়ায় বসতে পেরে তার এ উদ্যোগকে কৃতজ্ঞ চিত্তে সাধুবাদ জানান অভিভাবকরা।