সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৬:১৯

ভিসির পদত্যাগ দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

ডেক্সরিপোর্ট: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেয়ার পরও লিখিত কোন প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (০৭ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নীচতলায় প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন ।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই মৌখিক আশ্বাসের আস্থার বিষয়টি হারিয়ে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ১২ দিন ধরে ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুরু থেকেই যেহেতু এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি।

এদিকে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান সাক্ষরিত লিখিত এক নোটিশে আজ থেকে ক্লাশ ও পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালুর ঘোষনা দেয়া হয়। ঘোষনা অনুযায়ী সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা একাডেমিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নিলেও প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

পাশাপাশি সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল তাদের কার্যক্রম শুরু করলেও বাসগুলোতে আশানুরুপ শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. মোঃ হাসিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন গেটের তালায় একধরনের গাম দিয়ে দিয়েছে। তাই তা খোলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি তারা গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে রেখেছে। তাই সিদ্ধান্ত থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

ভিসির ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার ক্ষমতার বাহিরে। এ বিষয়ে গতকালের মিটিং এ যে আলোচনা হয়েছে, সেই হিসেবে মন্ত্রীসহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বরিশালের সুশীল সমাজের যারা ছিলেন তারাই দেখবেন।

এদিকে শনিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের রুদ্ধদার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হবে। ভিসি পদত্যাগের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করে জানানো হয় ড. ইমামুল হক যাতে আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হবে। এরজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সুপারিশ করা হবে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ২২ দফা দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ছুটির ব্যাপারে আমি অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। কোনো চিঠি পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব ছুটিতে যাব কিনা।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের না জানানোর কারণে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন ভিসি। ফলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। তবে শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ না করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।